ফাইল ছবি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাথরুম থেকে এক নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালের মর্গে প্রেমিকের মরদেহ দেখে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) তার মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
তন্ময়ী মন্ডল নামে ওই তরুণী বারডেম হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায়।
দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, তন্ময়ীর ‘প্রেমিক’ আকাশ মিত্র রোববার (০৪ অক্টোবর) বিকেলে কেরাণীগঞ্জের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
সোমবার তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয় ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। সেসময় তন্ময়ী মর্গে ছিলেন।
প্রেমিকের মরদেহ দেখার পর তিনি হাসপাতালের ভেতরেই নিজের হাত কাটেন। এরপর পুরনো ভবনের নিচতলার বাথরুমে ঢুকে গলায় ফাঁস দেন।
আকাশ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মাখন চন্দ্র মিত্রের ছেলে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মালোপাড়া মিন্টু হাজীর গলিতে থাকতেন।
আকাশ বিবাহিত এবং এক সন্তানও রয়েছে জানিয়ে এসআই রফিকুল বলেন, তিনি আর্থিক সংকট ও ঋণে জর্জরিত হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে তন্ময়ীর টাকা পাওয়ার কথা লেখা হয়েছে।
আরও পড়ুন<<>> বিসিএসে বাদ পড়া আরও ৪০ জনকে নিয়োগ
তন্ময়ীর বোন তন্দ্রা মন্ডলের দাবি, আকাশের সঙ্গে তন্ময়ীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আকাশ বিভিন্ন অজুহাতে তন্ময়ীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছিল, যা তন্ময়ী অন্যের কাছ থেকে ধার করেছিল। প্রতারণার বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভেতরে অনেক রহস্য আছে। আমরা সেগুলো বের করার চেষ্টা করছি।
প্রাথমিকভাবে ‘প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা’ বলেই ধারণা করা হচ্ছে, বলেন শাহবাগ থানার এসআই মাহফুজা আক্তার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসাইন বলেন, পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। সিসিটিভির ভিডিও যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
ভিডিওতে তাকে হাসপাতালের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। তার সঙ্গে কেউ ছিল না। তবে বাথরুমে যাওয়া পর্যন্তই তাকে দেখা গেছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































