ছবি: আপন দেশ
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা রক্ষায় এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে সাহস ও নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করছে শান্তিরক্ষীরা।
তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য নষ্ট করতে নানা সময়ে অপতৎপরতা হয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমঞ্চে আমাদের শান্তিরক্ষীরা যে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই সম্ভব হয়েছে। দেশের এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেটি রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৯টি মিশনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের সাহসী অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, নারী সদস্যদের এই সক্রিয়তা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এ গৌরবকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডের ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন<<>>প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
তিনি বলেন, অতীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য বলে তিনি সতর্ক করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রথাগত যুদ্ধের বাইরে এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সবসময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাস করে। সংবিধানে ব্যক্ত হওয়া বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক সহ-অবস্থানের প্রতি দেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের এগিয়ে নিতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধা। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আজ একটি প্রতিষ্ঠিত বিশ্বস্ত নাম। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
সেনাপ্রধান জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর ১৭৫ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২৮৭ জন।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































