Apan Desh | আপন দেশ

 কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:৫০, ৪ মে ২০২৬

আপডেট: ২১:০১, ৪ মে ২০২৬

 কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, শিল্প পুনরুজ্জীবন, বাজার স্থিতিশীলতা ও জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (০৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিল পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন<<>>পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না

জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসিরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ চিনিকল চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রফতানি সম্ভাবনা বাড়ানোর মতো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর, বিশেষ করে এআই-ভিত্তিক সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানি, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
 
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এতে বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এ পরিষদ টিসিবির বাজার হস্তক্ষেপকে আরও সময়োপযোগী ও লক্ষ্যভিত্তিক করবে।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ, সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং গণমাধ্যমে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে একটিও চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে জোর দেয়া হবে। পাশাপাশি কোরবানির পরবর্তী সাতদিন চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়