Apan Desh | আপন দেশ

‘জুলাই সনদ’ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর: আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৭:৫৫, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘জুলাই সনদ’ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর: আলী রীয়াজ

ছবি: আপন দেশ

জুলাই সনদকে রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর বলে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, আন্দোলনে অংশ নেয়া তরুণ, যুবক, শ্রমিক এবং পরিবারগুলোর কাছে রাষ্ট্রের বড় দায় রয়েছে। তাদের ত্যাগের বিনিময়েই জুলাই সনদ এসেছে। সনদের অক্ষর কালো কালিতে লেখা হলেও এর ভিত্তি রক্তে রঞ্জিত।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্য জুলাই সনদের পক্ষে সম্মতি জানাতে হবে। এছাড়া আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করার আহবান জানান তিনি।

দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারা জাতিকে দায়িত্ব রেখে গেছেন। তার মতে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই প্রথম কাজ। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনকশা নির্ধারণও জরুরি দায়িত্ব।

তিনি বলেন, দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭-৩৭ বছরের নিচে। আগামী কয়েক দশকে দেশ কোন পথে যাবে, সে সিদ্ধান্ত বর্তমান প্রজন্মকেই নিতে হবে। শহিদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেবে। এতে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগোবে।

আরও পড়ুন <<>> শবে বরাতে আতশবাজি-পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ: ডিএম‌পি

তিনি ২০০৯ সালের পরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংশোধনের জন্য গঠিত সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধি ছিল না। ওই কমিটি ২৫টি বৈঠক ও ১০৪ জনের মতামত নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বহাল রাখার সুপারিশ করেছিল। তবে পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়।

তার দাবি, একক সিদ্ধান্তে পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়। সংবিধান সংশোধনী যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক ইচ্ছায় না হয়, সেটি এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে প্রহসন হিসেবে আখ্যা দেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ২০১২ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে ‘সার্চ কমিটি’ গঠনের নাটক করা হয়েছিল। বাস্তবে সুপারিশে কাজী রকিব উদ্দিনের নাম ছিল না। এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। তার মতে, এসব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়