ছবি : আপন দেশ
বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহি পদে শপথ নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবিতে যোগদান করেছেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনিং শেষ করে আজ শপথ গ্রহণ করেছেন ফেলানীর ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন। এখন থেকে তিনি বিজিবির সিপাহি পদে দায়িত্ব পালন করবেন।’
এদিকে বোনকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আরফান।
শপথ গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার বোনকে যে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে, আজ আমি সেই সীমান্তের রক্ষী। আমি সীমান্তে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় চাইব না যে, আমার বোনের মতো আর কারও বোন বা কোনো বাবা-মায়ের সন্তানকে এভাবে হত্যা করা হোক। আমি জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করব এবং এ ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করব।’
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ বিজিবি আয়োজিত সিপাহি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন আরফান হোসেন (২১)। লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। সে সময় উপস্থিত ছিলেন আরফানের বাবা মো. নুরুল ইসলাম।
এর আগে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল।
আরও পড়ুন : ফের আসছে শৈত্যপ্রবাহ, যতদিন থাকবে
সীমান্ত হত্যার সেই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ছোট ভাই আরফানের এই নিয়োগ শোকসন্তপ্ত পরিবারটির মাঝে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































