আবেদ খান
সংবাদকর্মীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শ্রম আদালতে হাজিরা দিয়েছেন দৈনিক জাগরণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক আবেদ খান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে তাকে দেখা যায়। এ সময় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মামলার বাদী সংবাদকর্মীরা।
সূত্রগুলো জানায়, একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক ও কর্মচারী বেতন-ভাতা না পাওয়ার অভিযোগে মামলা করেন। তারা জনান, আবেদ খান সম্পাদিত পত্রিকায় পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত ১৮ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। বারবার তাগাদা দিয়েও সমাধান না হওয়ায় ২০২৩ সালে তারা শ্রম আইনে মামলা করেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, দৈনিক জাগরণে কর্মরত অবস্থায় তাদের হঠাৎ করেই চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর বকেয়া বেতন, ভাতা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের জন্য বারবার যোগাযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।
আরও পড়ুন<<>>১৭ বছরের দুর্নীতির সন্ধানে স্থানীয় সরকার বিভাগে কমিটি গঠন
মামলার বাদীরা হলেন মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, মো. তাজুল ইসলাম, মো. খোকন মিয়া, মো. মোরসালিন, মো. সুজন আকন্দ, মো. মিজানুর রহমান ও শরিফুল। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বেতন-ভাতা আটকে রাখা হলেও সমঝোতা বা পাওনা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত বাদীদের পক্ষে রায় দেন। পরে ২৪ নভেম্বর রায় বাস্তবায়নের জন্য দৈনিক জাগরণ কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, রায় কার্যকরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পরে পাওনা আদায়ের দাবিতে বাদীরা ফৌজদারি আইনে পৃথক মামলা দায়ের করেন।
বাদীপক্ষের ভাষ্য, চলতি বছরের ৩ এপ্রিল পৃথক মামলায় আবেদ খান আদালতে এসে জামিন নেন। এরপর একাধিক তারিখ ধার্য হলেও তিনি আদালতে হাজির হননি। এতে আদালতের নির্দেশনাও উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হওয়ার পর কয়েকজন সাবেক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আর্থিক সংকট থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান সম্ভব ছিল। কিন্তু পাওনা পরিশোধ কিংবা সমঝোতার কোনো চেষ্টা করা হয়নি।
এদিকে, আগের এক শুনানিতে চার্জ গঠনের দিন ধার্য থাকলেও আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। সে সময় আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে বাদীপক্ষ আপত্তি জানায়।
বাদীপক্ষ আরও জানায়, এ মামলা নিয়ে আবেদ খান একটি মিসকেস আবেদন করেছিলেন, যার শুনানি ছিল বৃহস্পতিবার। তবে আদালত সেটি স্থগিত করেছেন। তাদের ভাষ্য, আগামী শুনানিতে মামলাটি শ্রম আদালতে চলবে নাকি ফৌজদারি মামলা হিসেবেও বিচার কার্যক্রম চলবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আবেদন গ্রহণ করা হলেও শ্রম আদালতে মামলার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে তারা মনে করছেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, আমরা আদালতের কাছেই শেষ ভরসা করছি। আশা করি, আদালত দ্রুত আমাদের পাওনা আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
তিনি অভিযোগ করেন, শুনানির সময় বাদীপক্ষকে এজলাসে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাদের বাধা দেন। তারা জানান, কেউ এজলাসে ঢুকতে পারবেন না। তবে তাদের প্রশ্ন, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি এজলাসে উপস্থিত থাকতে পারেন, তাহলে বাদীপক্ষ কেন সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।
একই সঙ্গে কয়েকজন বাদী অভিযোগ করেন, অতীতে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন আবেদ খান। সে বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবেদ খানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শ্রম আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































