ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারে রয়েছেন। তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।
তার ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা না করার অভিযোগে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তার বোন উজমা খান।
বুধবার (০৩ সেপ্টেম্বর) তিনি আদালত অবমাননার একটি আবেদন করেছেন।
গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে নিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে এ আবেদন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে দেশটির কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট সাজিদ বেগ, পাঞ্জাবের কারা বিভাগের মহাপরিদর্শক মিয়ান সালিক জালাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ সরওয়ার রাজা এবং ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চলের প্রধান কমিশনার সোহেল আশরাফ।
উজমা খানের আবেদনে বলা হয়, গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগের বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব নির্দেশ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। ওই আদেশে ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খানের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তার বোনদের প্রতি সপ্তাহে ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
কিন্তু মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) উজমা খান নির্ধারিত সাক্ষাতের জন্য আদিয়ালা কারাগারে গেলেও তাকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত মার্চ থেকে ইমরান খানের ছেলেদের সঙ্গে অডিও যোগাযোগও সীমিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে দুই সপ্তাহ পরপর টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু সে নির্দেশও কার্যকর করা হয়নি। এসব কারণে ১৮ আগস্টের আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছেন উজমা খান।
চিকিৎসার নির্দেশ নিয়েও আদালত অবমাননার অভিযোগ ১৮ আগস্টের সুপ্রিম কোর্টের আদেশের আরেকটি অংশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগেও এর আগে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরে চরম বিশৃঙ্খলা
ওই আদেশে ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেখানে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তার শারীরিক পরীক্ষা করার কথা ছিল।
একই আদেশে ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছিল। তবে আদালতের ওই নির্দেশের পরও ইমরান খানকে ২১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































