ছবি : সংগৃহীত
শিশুদের শিক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এক বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক স্কুল ব্যবস্থায় নেওয়া এ পদক্ষেপ দেশটির অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সিদ্ধান্তটির আওতায় শহরের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে।
নতুন নীতির আওতায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমে এআই টুল ব্যবহার করতে পারবে না। তবে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি তুলনামূলকভাবে শিথিল রাখা হয়েছে। সাধারণত ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী এসব শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষামূলক বা পাইলট কর্মসূচির আওতায় এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি তাদের বছরে দুইবার এআই বিষয়ে সচেতনতামূলক বা ‘এআই সাক্ষরতা’ ক্লাস করানো হবে।
তবে মানসিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি এআইভিত্তিক ‘কম্প্যানিয়ন চ্যাটবট’ কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্যই ব্যবহারযোগ্য হবে না। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের মানসিক সমর্থনের বিকল্প হিসেবে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকছে।
মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, প্রযুক্তি খাত এআইনির্ভর প্রাথমিক শিক্ষাকে ভবিষ্যতের অনিবার্য ও প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করছে না।
আড়ও পড়ুন : দাবানলের ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত মালয়েশিয়া-ফিলিপাইন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
তিনি বলেন, শিশুদের শেখা ও বেড়ে ওঠার জন্য মানবিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সহপাঠীদের সঙ্গে সামাজিক ও ব্যবহারিক দক্ষতা গড়ে তোলা, শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং নিজেরাই কঠিন সমস্যার সমাধান করার সুযোগ পাওয়া প্রয়োজন।
তবে শিক্ষার্থীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শিক্ষকরা পুরোপুরি এআই ব্যবহার থেকে বিরত থাকছেন না। পাঠ পরিকল্পনা তৈরি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে শিক্ষকদের এআই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়নে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষজুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। পরে তারা তাদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ প্রকাশ করবে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুলও এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি যাতে শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের পথে বাধা সৃষ্টি না করে, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহায়তা করে—তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।
নিউইয়র্ক সিটির এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন শিক্ষাক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তিকে শিক্ষার অংশ হিসেবে কতটা এবং কোন বয়সে ব্যবহার করা উচিত, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































