ছবি : সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে সাত শতাধিকের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্যোগে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। ভয়াবহ সে পরিস্থিতি থেকে প্রাণে ফিরে আসা ২১ ভারতীয় নাগরিক এবার শোনালেন তাদের বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা।
শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু হয়ে চেন্নাইয়ে ফিরেছেন ওই ২১ জন।
বেঁচে ফেরা ভারতীয়রা জানান, তারা ২১ জন তীর্থযাত্রায় বের হন। এ ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে সব কিছু ভেসে যাচ্ছিল। তখন তারা একটি শাড়ি ব্যবহার করে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠেন। যার ফলে তাদের প্রাণ বেঁচে যায়। তারা সবাই ভারতের তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। তাদের বেশিরভাগের বয়স ৫০ বছরের বেশি।
তারা আরও জানিয়েছেন, ভয়াবহ সে মুহূর্তে বাস থেকে বেরিয়ে কাদামাটি ও কাঁটাঝোপ পেরিয়ে পাহাড়ে উঠতে হয়েছে। এরপর প্রায় দেড় দিন অপেক্ষার পর তাদের হেলিকপ্টারে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।
তবে তাদের সঙ্গে তিনটি বাসে থাকা আরও ৩৬ জনের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এছাড়া চেন্নাই থেকে যাওয়া আরও একটি ৪৯ সদস্যের তীর্থযাত্রী দলেরও খোঁজ মিলছে না।
ভেলাচেরির মুরুগু নগরের বাসিন্দা নাভু কবির দাস ও তার স্ত্রী বিজয়া ভুবনেশ্বরী ছিলেন উদ্ধার হওয়া ২১ জনের দলে। তাদের ভাষায়, ভয়াবহ সে ঘটনা থেকে ফিরে আসা যেন নতুন জীবন পাওয়ার মতো।
তারা কুম্বাকোনমের একটি সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ৫৭ জনের একটি দলের সঙ্গে তিনটি বাসে নেপালের রাসুয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন। তাদের বাসটি ছিল বহরের দ্বিতীয় বাস। কাদায় আটকে যাওয়ায় মেরামতের জন্য কিছুক্ষণ থামতে হয়েছিল বাসটি।
বিজয়া বলেন, ওই কয়েক মিনিটের বিরতিই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন বাঁচিয়ে দেয়।
কবির দাস জানান, হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। এরপর পাথর বাসের ওপর পড়তে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো বেগে পানি ছুটে আসে।
পেছনের বাসটি কাত হয়ে যেতে দেখে বিজয়া আর তাকিয়ে থাকতে পারেননি। নেপালি চালক বিপদ বুঝতে পেরে সবাইকে দ্রুত বাস থেকে নেমে উঁচু জায়গার দিকে দৌড়াতে বলেন। এরপর তিনিও বাস ছেড়ে বেরিয়ে যান।
বাস থেকে বের হওয়ার পর ২১ জনকে প্রায় একতলা সমান উঁচু কাদামাটির ঢাল বেয়ে উঠতে হয়। বারবার পা পিছলে নিচে পড়ে যাচ্ছিলেন তারা।
দলের সদস্য পুঙ্গোদি পাহাড়ের ওপরে উঠে নিজের সোয়েটার পরেন। শাড়ি খুলে নিচে থাকা অন্যদের দিকে নামিয়ে দেন।
বিজয়া বলেন, তারা শাড়ি ও সেখানে থাকা একটি তার শক্ত করে ধরে পাহাড়ে উঠতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত একজন নারী একা ওপরে উঠতে পারছিলেন না। তখন শাড়িটি তার কোমরে বেঁধা হয়। দলের অন্য সদস্যরা শাড়িটি ধরে তাকে টেনে ওপরে তুলে নেন।
আরও পড়ুন <<>> ‘কোনো হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে মুসলিম থাকবে না, সে হিন্দু নয়’
কাঞ্চিপুরম জেলার একটি পঞ্চায়েত ইউনিয়ন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সত্যা জানান, তারা সকাল ৮টার দিকে সিয়াব্রুবেসি থেকে চীনের অভিবাসনকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। তাদের বাস ছিল বহরের মাঝখানে।
হঠাৎ তারা দূরে ধুলোর মেঘের মতো কিছু দেখতে পান। পরে বুঝতে পারেন, সেটি আসলে পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত।
সত্যা বলেন, পাথর ও কাদা সুনামির ঢেউয়ের মতো আমাদের দিকে এগিয়ে আসছিল। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট উঁচু হয়ে উঠেছিল। এমন দৃশ্য আমরা শুধু ইংরেজি সিনেমায় দেখেছি।
যাত্রীদের চালকের পাশের দরজা দিয়ে বাস থেকে বের হতে হয়। তখন কাদা তাদের গোড়ালির ওপর পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































