ছবি : সংগৃহীত
ভয়াবহ হিমবাহধস ও আকস্মিক বন্যায় লন্ডভন্ড নেপালে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে নিহতের তালিকা। এরইমধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও প্রায় ১৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ।
নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার মধ্যে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে সন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের আশা কমে আসছে। এদিকে দেশটির উত্তরাঞ্চলে নতুন করে আরও বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভোটে কোশি নদীতে গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় ভাটির অঞ্চলে আবার প্রবল বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, এ তথ্য নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে।
নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের পর্যটন দফতরের তথ্য অনুযায়ী ৩৪টি দেশের ৬৬৮ জন বিদেশী পর্যটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ভারতের ১৭৭, আমেরিকার ৯০, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩, কানাডার ২৫ এবং চীনের ১০০ জন নাগরিক রয়েছেন।
এছাড়া তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশী। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং উদ্ধারকাজে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন<<>>হিমবাহধসের পর এবার ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সড়কপথে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৫ হাজারেরও বেশি সদস্য এবং সরকারি-বেসরকারি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আক্রান্তদের উদ্ধার ও ভারতীয় সহায়তায় পাঠানো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুরঙ্গ থেকে আটকে পড়া ৩৫০ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রারম্ভিক গবেষণায় জানা গেছে, হিমবাহের বরফ ও পাথর ধসে লেন্দে নদীতে বাধা তৈরির পর এ বিশাল বন্যার উৎপত্তি হয়। যা ৪.৪ মাত্রার একটি ভূকম্পন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছিল। এ বন্যায় ১৫টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ভারত সীমান্তবর্তী বিহার, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে সতর্কতা জারি করে কয়েক হাজার মানুষ স্থানান্তর করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতিসংঘ ২০ লাখ ডলার, আমেরিকা ৫ লাখ ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া ৩৬ লাখ ডলার জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি ইউইউ তাদের স্যাটেলাইট ব্যবস্থা চালু করেছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওষুধ পাঠিয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ সুনীল আচার্যের মতে, এ ঘটনা জলবায়ু সংকটের একটি ভয়াবহ উদাহরণ।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































