Apan Desh | আপন দেশ

সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই হট্টগোল

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৯:০০, ২৭ আগস্ট ২০২৬

সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই হট্টগোল

ছবি: আপন দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই এক ঘণ্টার মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও এমপিদের  ওপর হামলা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের এমপিরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম।

সরকারের ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ -এমন প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র হট্টগোল হয়। বিরোধী দলীয় এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ, এটা শাহবাগ ও পল্টনে বলা যায়। সংসদে এ ধরনের প্রশ্ন চলে না।

হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, তিনি সফল না ব্যর্থ। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো প্রশ্ন নয়, বরং পল্টনের বক্তব্য। 

আরও পড়ুন<<>>সংসদের মির্জা ফখরুলের আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, এমন নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে তিনি বিরোধী এমপিদের প্রতি আহবান জানান।

তিনি বলেন, স্পেসিফিক করে বলতে হবে, কোন অপরাধে শাস্তি হয়নি।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে শাহবাগ ও পল্টন প্রসঙ্গ উঠে আসার পর সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলের এমপিরা নিজ নিজ আসন থেকে উঠে প্রতিবাদ ও চিৎকার করতে থাকেন।

পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন,মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাই।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে সব সময় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। তিনি নিজেকে সংসদের শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তার ছাত্র হতে সংসদে আসিনি। তিনি শিক্ষকতা করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। সেখানে যার ইচ্ছা ভর্তি হবে, শিখবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সংসদের সৌন্দর্যের জন্য তাকে  ক্ষমা চাইতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার বলেন, সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা আপনাদের রয়েছে। আমি দেখলাম বিরোধীদলীয় নেতা যখন দাঁড়ালো উনার পেছনে সবাই দাঁড়িয়ে গেল। কাউকে বসানোই যায় না। সংসদ কথা বলার জায়গা। কথার মাধ্যমে একে অপরের যুক্তিকে খণ্ডন করা যাবে। আমি বিরোধীদলীয় দলের প্রস্তাব খতিয়ে দেখবো। কিন্তু আপনারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। শব্দ করে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।

স্পিকার বলেন, আমি আমার জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে সংসদ পরিচালনার করার চেষ্টা করছি। বিগত ৪০ বছর ধরে এ জাতীয় সংসদে আছি। অতীতে অনেক খারাপ রেকর্ড আছে। আমরা বলতে পারি অতীতের তুলনায় আমরা ভালো সংসদ পেয়েছি। আমরা উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ জানাব।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়