ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভূকম্পন ও ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও অন্তত ৪০৩ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যার মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটক ও নাগরিক অন্তর্ভুক্ত। চিতওয়ান ও রাসোয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকাজে নেপাল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এবং ৩ হাজার ৩০০ বেশি পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, প্ল্যানেট ল্যাবের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে নদী আটকে যাওয়ার এই চিত্র দেখা গেছে। তবে নদী আটকে যেখানে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল, সে জায়গাটি এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। ফলে ভোটকোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকার বাসিন্দাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি এখনো বজায় রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক প্লাবনে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৫৭ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন<<>>নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬১ জন নেপালি নাগরিক এবং ৩৪১ জন বিদেশি। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ।। এছাড়া এই বন্যায় রসুওয়াগড়ি শুল্ক কার্যালয়, অভিবাসন দফতর, হাইড্রোবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেতু ও সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রেডক্রসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলাকাটিতে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত না হলেও বিগত ১০ দিনে তাপমাত্রা বেড়ে ১৯ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। বরফ গলে যাওয়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক ভূকম্পন বা জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবেই এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, এটি কোনো হিমবাহের হ্রদ বিস্ফোরণ নয়, বরং বরফ ও পাহাড়ি শিলার ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল।
গত বছরও একই এলাকায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সে সময় দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে নেপাল ও চীনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের চুক্তি হলেও, চীনা কর্তৃপক্ষও এ আকস্মিক ঘটনার আগাম কোনো তথ্য পাননি বলে জানানো হয়েছে। চীনেও এ ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
বর্তমানে সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় মেঘলা আবহাওয়ার কারণে স্যাটেলাইট ছবি স্পষ্ট আসছে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নদীর প্রবাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকি থাকায় যে কোনো মুহূর্তে দ্বিতীয় দফায় আবার বন্যা চলে আসতে পারে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































