Apan Desh | আপন দেশ

শান্তি চুক্তির খবরে তেলের ব্যাপক দরপতন

আন্তজাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:২১, ১৫ জুন ২০২৬

আপডেট: ১০:২১, ১৫ জুন ২০২৬

শান্তি চুক্তির খবরে তেলের ব্যাপক দরপতন

ছবি সংগৃহীত

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অবশেষে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধের খবরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে এবং দ্রুত কমতে শুরু করেছে তেলের দাম।

সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত মার্চের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৫৮ সেন্ট বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে ৮৩ ডলার ৭৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ ডলার ১ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ৮০ ডলার ৮৭ সেন্টে নেমে এসেছে।

এ শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ‌‘টোল মুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত করা হবে। 

আরও পড়ুন<<>>ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি, খুলল হরমুজ

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ চুক্তির ফলে বাজারে সরবরাহের সংকট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ৫ ভাগের এক ভাগ এ পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং কত দ্রুত উৎপাদন ও রফতানি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে তার ওপর। কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার পণ্য বিশ্লেষক বিবেক ধরের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যদি যুদ্ধের আগের সময়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সরবরাহও নিশ্চিত করা যায়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে, যা জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে ওই অঞ্চলে জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়