Apan Desh | আপন দেশ

পদত্যাগ করব না, বরখাস্ত করুক: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:২৫, ৭ মে ২০২৬

আপডেট: ১২:২৮, ৭ মে ২০২৬

পদত্যাগ করব না, বরখাস্ত করুক: মমতা

ছবি সংগৃহীত

ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বলেছেন, তারা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই আজকের দিনটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক। সব রেকর্ড থাকুক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বুধবার (০৬ মে) দলের বিধায়কদের সঙ্গে এক বৈঠকে বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ২৯ এপ্রিল থেকে চলা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে তার দল আদালতে যাবে। এ সময় দলের কর্মীদের মনোবল চাঙা করার পাশাপাশি তিনি একটি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন—দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে সে নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শীর্ষ পদ তথা মুখ্যমন্ত্রীর পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে দাবি করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গে কোনো নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ঘটছে না। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, তা ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার তুলনায় অনেক কম। কিছু গুন্ডা এখনো সক্রিয় আছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলকে আন্দোলনের মেজাজে রাখতে চান। তিনি ঘোষণা করেছেন, বিধানসভা শুরুর দিনটিকে ‘কালো পোশাক দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

আরও পড়ুন<<>>সহকারী হত্যাকাণ্ডে শুভেন্দুর নিশানায় তৃণমূল

৭১ বছর বয়সী এ নেত্রী নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন এবং হারের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘নোংরা খেলা’ খেলার অভিযোগ তুলেছেন এবং মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপিবিরোধী জোটের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন।

বুধবার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার ঘোষণা রাজনৈতিক নেতাদের নিয়মের বই ঘাঁটতে বাধ্য করেছে। তবে এর কোনো স্পষ্ট ‘এসওপি’ বা নির্দেশিকা নেই—সম্ভবত এ ধরনের পরিস্থিতির কথা কেউ কখনো কল্পনাও করেননি।

বিদ্যমান ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল এবং সাধারণ ধারণা হলো, রাজ্যপাল অর্থাৎ, গভর্নর টেকনিক্যালি মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে পদে আসীন থাকেন এবং বিধানসভা ভেঙে না যাওয়া পর্যন্তই তিনি পদে থাকতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আস্থা ভোটের মাধ্যমে বরখাস্ত করার বিধান থাকলেও, নতুন নির্বাচনের ফলাফল চলে আসায় তা কার্যকর নয়। আবার রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা একটি চরম পদক্ষেপ। কারণ, রাজ্যপাল চাইলেই বিজয়ী দল বা জোটকে সরকার গঠনের জন্য আহবান জানাতে পারেন।

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ বৃহস্পতিবার (০৭ মে) শেষ হচ্ছে, যা সমাধানের জন্য কার্যত কোনো সময়ই হাতে রাখছে না। ইতিমধ্যেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাসহ অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়