Apan Desh | আপন দেশ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে সাত বিষয়

আন্তজাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২৩:৩১, ১১ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ২৩:৩২, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে সাত বিষয়

ছবি: সংগৃহীত

টানা ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চরম সংশয় ও অবিশ্বাসের মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো সরাসরি এক টেবিলে বসেন দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এ বৈঠক।

মার্কিন হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরতে ইরানি প্রতিনিধিরা কালো পোশাক পরে বৈঠকে অংশ নেন। নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাদের জুতা ও ব্যাগও সঙ্গে নিয়ে আসেন তারা।

এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু প্রাধান্য পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি।

ইরান লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি চায় তেহরান।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ প্রণালি শর্তহীনভাবে উন্মুক্ত থাকুক। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের শর্ত দিয়েছে ওয়াশিংটন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এ প্রথম দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এমন সরাসরি আলোচনা হলেও এর ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার অংশ নেন। ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বৈঠকের পর নৈশভোজের বিরতি দেয়া হয়। পরে আবার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও এতে উপস্থিত ছিলেন।

শুরুর দিকে পরোক্ষ আলোচনার কথা থাকলেও পরে সরাসরি বৈঠক শুরু হওয়াকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। লেবানন ইস্যুতেও কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন <<>> ইতিবাচক পরিবেশে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফার আলোচনা

কিছু সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইলের অভিযান দক্ষিণ লেবাননে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে এবং বৈরুতে নতুন করে হামলা নাও হতে পারে।

এদিকে ইরানের একটি সূত্র দাবি করেছে, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

এর আগে শনিবার সকালে মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়। তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদল শুক্রবারই ইসলামাবাদে পৌঁছায়। তারা সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের স্মরণে কালো পোশাক পরেন।

শান্তি আলোচনার আগে উভয় পক্ষই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে। শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেন, এ আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে।

আলোচনাকে ঘিরে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে বিপুলসংখ্যক সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। পাল্টা হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহও। সব মিলিয়ে আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়