ছবি: আপন দেশ
চিকিৎসকদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি। চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও মোরাল এথিকস আরও শক্তিশালী করতে হবে। রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।
তিনি বলেন, জীবনে শুধু নেয়ার নয়, দেয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। ব্যাংকে চাকরিজীবনের শুরুতে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসের বেতনের ১০ শতাংশ সমাজকল্যাণে ব্যয় করতে উৎসাহিত করতেন। সে শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কিছু করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে।
করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যার সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকরা ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠে কাজ করার বিষয়টি তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারাদেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন <<>> হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকার মানুষ যেমন মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও একই সেবার দাবিদার। চিকিৎসকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে জনগণকে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিলম্ব মেনে নেয়া হবে না। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
আপন দেশ/এসএস




































