ছবি : সংগৃহীত
প্রচণ্ড গরমে অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু এসময় ঘুমালে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকলাপে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এটি অনেক ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত গরমের কারণে যেসব স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে অন্যতম পানি শূন্যতা ও হার্ট অ্যাটাক। অনেকেই মনে করেন অতিরিক্ত গরম তাপ হার্টের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আসলেই কি প্রচণ্ড গরমে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞরা কী বলেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষ পানিশূন্যতা ও রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন। গ্রীষ্মকালে, রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয় এবং শীতের তুলনায় রক্তচাপ হ্রাস পায়।
যাদের কম রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের এসময়ে শরীরের বিশেষ যত্ন নেয়া উচিত। যদিও এটি সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাই গরমের কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে বলা ঠিক হবে না। তাপ ও হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। প্রতিটি ঋতুতেই মানুষের হার্টের যত্ন নেয়া উচিত।
বিএমসি মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, শোয়ার ঘরের তাপমাত্রা যদি ৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট কিংবা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্নায়ুতন্ত্রে পরিবর্তন ঘটে।
গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির ড. ফার্গুস ও’কনর এবং তার দল নভেম্বর ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত গ্রীষ্মকালে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪৭ জনের ওপর রাত ৯টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নজরদারি চালান। সেখানে উঠে আসে, গরম ঘরে শরীর ঠান্ডা করতে রক্তনালি প্রসারিত হওয়ায় হৃদ্যন্ত্রকে দ্রুত রক্ত পাম্প করতে হয়। তখন প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে হৃৎস্পন্দন মিনিটে ১০ বিট বাড়ে। এতে ঘুমের স্বাভাবিক রিকভারি ব্যাহত হয় এবং হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি কমে যায়। তাপমাত্রা ৭৫-৭৯ ডিগ্রিতে ঝুঁকির মাত্রা ১ দশমিক ৪ গুণ। ৭৯-৮২ ডিগ্রিতে ২ গুণ এবং ৮২-৯০ ডিগ্রিতে ২ দশমিক ৯ গুণ বাড়ে। এটি দীর্ঘ মেয়াদে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দিনের বেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৭৯ ডিগ্রি নির্ধারণ করলেও রাতের কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর বড় অংশই গরম রাতের কারণে ঘটবে। তাই হৃদ্যন্ত্র সুরক্ষায় রাতের তাপমাত্রা ৭৫ ডিগ্রির নিচে রাখা জরুরি।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মে পানিশূন্যতা এড়াতে একজন মানুষের প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকবে এবং এনার্জি বাড়বে। পানিতে খানিকটা লবণ মিশিয়ে পান করলে রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণ করা যেতে পারে।
আপন দেশ/এনএম




































