ছবি : আপন দেশ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পুনর্গঠন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে ব্যাংকটি।
পাশাপাশি শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিট একীভূত ও যৌক্তিকীকরণের কাজ চলছে। এসব কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজ্যুলেশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এক সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদায়, পুনর্গঠন ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় ব্যাংকটির মার্জার ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং আইটি ও অপারেশনাল ইন্টিগ্রেশনের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সভায় জানানো হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় খেলাপি ঋণ আদায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা দায়ের হয়েছে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে সমঝোতাভিত্তিক ঋণ আদায়ের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
ব্যাংকটির আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পরিচালিত ফরেনসিক অডিটও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
গত ছয় মাসে পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই ব্যাংকটিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোও সমন্বয় করা হয়েছে।
পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, সুইফট ও আরএমএসহ আইটি অবকাঠামো একীভূত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে পাঁচ ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে আমানত উত্তোলনের সুবিধায় অভিন্ন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া ৭৮০টি শাখা ও ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিট একীভূত ও যৌক্তিকীকরণের কাজ চলছে। শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আরএকে সিরামিকসের টাইলস উৎপাদন লাইন-৩ চালু
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির সুশাসন, পরিচালন দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে ঋণ আদায় ত্বরান্বিত, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।
আপন দেশ/মিম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































