ছবি: আপন দেশ
বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে আগের চেয়ে লোডশেডিং কমেছে। তবে বেড়েছে গ্যাসের ঘাটতি। এতে বাসাবাড়ি, কারখানা, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১টা থেকে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিলো ১৬ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ১৪ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট সরবরাহ করায় লোডশেডিং হয়েছে ১৫৯২ মেগাওয়াট। ফলে দিনের বেলায় চাহিদা কমতে থাকায় লোডশেডিং কমে।
বিকেল ৫টায় চাহিদা ও লোডশেডিং ছিল যথাক্রমে ১৪ হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট এবং ৩৬৫ মেগাওয়াট। গত সপ্তাহে গড়ে লোডশেডিং ছিল আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট। এর আগে গত ১০ আগস্ট রেকর্ড ৩৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। আর চাহিদা ছাড়িয়ে যায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ কমেছে। সরকারি হিসেবে বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যদিও প্রকৃত চাহিদা অন্তত ৫০০ কোটি ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে ২২৭-২৩০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
এরমধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে কমবেশি ১৬২ কোটি ঘনফুট এবং বাকি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে এলএনজি থেকে।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট। পাওয়া যাচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট। এরমধ্যে সামিটের টার্মিনাল থেকেই ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে।
বাকি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে। সেখানে সক্ষমতা রয়েছে প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট।
কর্মকর্তারা বলছেন, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লারের মধ্যে একটি বয়লার সচল হয়ে সেখান থেকে অল্প পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অপর বয়লারটি মেরামত শেষ হলেও পরীক্ষার কাজ বাকি।
এ পরীক্ষা করার জন্য ২-৩ দিন টার্মিনালটির পুরো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তাতে সংকট বাড়বে আরও। সেজন্য যখন গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কম থাকবে তখনই করা হবে এ পরীক্ষা। সাধারণত গরম কমলে কিংবা ছুটির দিনে গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়।
আরও পড়ুন <<>> আইডিআরএ নিয়োগ পেলেন মো. সিরাজুল ইসলাম
দুটো টার্মিনাল সচল হলে এবং এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে মোট গ্যাস সরবরাহ ২৬৫ কোটিতে উন্নীত হবে। তাতে সংকট কিছুটা কমবে। তবে পুরোপুরি সংকট কাটাতে অন্তত দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। সেজন্য সরকার আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালিতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জীর এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় হঠাৎ করেই দৈনিক ৫৫-৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। ১৫ দিন পর টার্মিনালটি আংশিক সচল হলে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামিটের একটি টার্মিনালে এলএনজি কার্গো নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে মোট গ্যাস সরবরাহ ১৯২ কোটিতে নামে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) থেকে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল সচল হলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে কারখানায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এখনও অনেক কারখানা উৎপাদনে যেতে পারেনি।
এক্সিলারেটের টার্মিনালটি পুরোদমে কমে নাগাদ চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































