Apan Desh | আপন দেশ

আল্লাহর ইবাদত, মাতা-পিতার খেদমত

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১১:৫৯, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আল্লাহর ইবাদত, মাতা-পিতার খেদমত

ফাইল ছবি

পৃথিবীতে পিতা-মাতার সম্মান ও মর্যাদা নিঃসন্দেহে সবার উপরে। মহান আল্লাহ সমগ্র বিশ্ববাসীর একমাত্র উপাস্য ও অভিভাবক। পিতা-মাতা হলো সন্তানদের ইহকালীন জীবনের সাময়িক অভিভাবক। সুতরাং সন্তানদের কাজ হলো, আল্লাহ তা‘আলার যাবতীয় হুকুম-আহকাম মানার এবং পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা। 

পিতা মাতা সম্পর্কে কোরআনের আয়াত
আল্লাহর হক হলো মানুষ একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে এবং আল্লাহর সঙ্গে শরিক করবে না। বান্দার হকের মধ্যে পিতা–মাতার হক সর্বাগ্রে। সন্তানের প্রতি পিতা–মাতার হক বা অধিকার হলো সন্তান পিতা–মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে এবং তাদের কষ্ট দেবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তার সঙ্গে শরিক করো না এবং পিতা–মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৩৬)। আর আমি নির্দেশ দিয়েছি মানুষকে, তার পিতা–মাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার। (সুরা-৪৬ আহকাফ, আয়াত: ১৫)। আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি যে তুমি আমার এবং তোমার পিতা–মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। (সুরা-৩১ লুকমান, আয়াত: ১৪)।

মানুষ তার পিতা-মাতার মাধ্যমেই দুনিয়াতে এসেছে। অতএব তারাই সর্বাধিক সদাচরণ পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহ বলেন- هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا- إِنَّا خَلَقْنَا   الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا- 

অর্থ: নিশ্চয়ই মানুষের উপর যুগের এমন একটি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না । আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি (পিতা-মাতার) মিশ্রিত শুক্রবিন্দু হ’তে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য। অতঃপর আমরা তাকে করেছি শ্রবণশক্তিসম্পন্ন ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন (দাহর ৭৬/১-২)।  

পিতা মাতার হক সম্পর্কে হাদিস
একজন সাহাবি নবীজি (সা.)–কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার সবচেয়ে বেশি কার? নবীজি (সা.) বললেন, তোমার মায়ের। সাহাবি পুনরায় প্রশ্ন করলেন, নবীজি (সা.) বললেন, তোমার মায়ের। সাহাবি আবারও জানতে চাইলেন, নবীজি (সা.) বললেন, তোমার মায়ের। এরপর সাহাবি জানতে চাইলে নবীজি (সা.) বললেন, তোমার বাবার। (বুখারি ও মুসলিম)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, পিতা–মাতা হলো তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম অর্থাৎ তুমি ইচ্ছা করলে তাদের খেদমত করে উত্তম আচরণের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারো; আবার ইচ্ছা করলে তাদের অবাধ্য হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারো। (ইবনে মাজাহ)। পিতা–মাতার অবাধ্যতার জন্য যেমন রয়েছে অভিসম্পাত, তেমনি তাদের আনুগত্যের জন্য রয়েছে পুরস্কারের ঘোষণা। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যখন কোনো অনুগত সন্তান স্বীয় পিতা-মাতার প্রতি অনুগ্রহের নজরে দৃষ্টিপাত করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (বায়হাকি)।

এক সাহাবি (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! আমার পিতা–মাতা ইন্তেকালের পরেও কি তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের কোনো কিছু দায়িত্ব অবশিষ্ট আছে? তখন নবী করিম (সা.) বললেন, হ্যাঁ, আছে। তা হলো তাদের জন্য দোয়া করা, তাদের গুনাহের জন্য তওবা–ইস্তিগফার করা, তাদের শরিয়তসম্মত অসিয়তগুলো আদায় করা, তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের বন্ধুবান্ধবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। 

আরও পড়ুন<<>>দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত 

এগুলো পিতা–মাতার মৃত্যুর পরও তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণের শামিল। (আবু দাউদ)। অন্য হাদিসে আছে, পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। (তিরমিজি)। পিতা–মাতার জন্য দোয়া করতে কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা শিখিয়েছেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছেন। (সুরা-১৭ বনী ইসরাইল, আয়াত: ২৪)।

পিতা মাতার হক ১৪ টি
সন্তানের ওপর পিতা–মাতার প্রতি ১৪টি হক বা দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি তাদের জীবদ্দশায় আর সাতটি তাদের ইন্তেকালের পর।

জীবিত অবস্থায় ৭টি করণীয় কর্তব্য হলো
১. সম্মান ও শ্রদ্ধা করা,

২. ভালোবাসা,

৩. মান্য করা,

৪. সেবাযত্ন করা,

৫. সুখ–শান্তির চিন্তা ও ব্যবস্থা করা,

৬. প্রয়োজন পূরণ করা ও

৭. দূরে থাকলে দেখা–সাক্ষাৎ করা।

ইন্তেকালের পর ৭টি করণীয় হলো
১. তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনামূলক দোয়া করা,

২. ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াব রেসানি করা,

৩. তাদের বন্ধুবান্ধব ও নিকট স্বজনদের সম্মান করা,

৪. তাদের বন্ধুবান্ধব ও নিকট স্বজনদের সাহায্য–সহযোগিতা করা,

৫. তাদের ঋণ থাকলে পরিশোধ করা ও তাদের কাছে কারও গচ্ছিত আমানত থাকলে তা প্রত্যর্পণ করা,

৬. বৈধ অসিয়ত পূর্ণ করা ও

৭. কবর জিয়ারত করা।

পিতা–মাতার জন্য করণীয় বিশেষ কিছু আমল: পিতা–মাতার মৃত্যুর পর বা বার্ষিকীগুলোতে প্রচলিত নিয়মে খাওয়া মেজবানির আয়োজন না করে নগদ টাকা গরিব–মিসকিনকে দান করা অধিক উপকারী। পিতা–মাতার জন্য ফরজ ও নফল বদলি হজ ও ওমরাহ করা যায় এবং তাদের পক্ষে কোরবানিও করা যায়।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়