ছবি: আপন দেশ
আইন লঙ্ঘন করে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক ও এএফসি হেলথ নামে দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করায় প্রায় ২১ কোটি টাকা তুলে নিতে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বুধবার (০৬ মে) সংস্থার চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে এ অনিয়মের ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি।
বৈঠকের পর বিএসইসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ভ্যানগার্ড পরিচালিত ‘ভ্যানগার্ড এএমএল রুপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড’ থেকে বিনিয়োগ করা হয় বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেডে। এর মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৬ লাখ শেয়ারে আইন লঙ্ঘন করে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৫ টাকা শেয়ার দরে দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ভ্যানগার্ডকে ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ডে ফেরত আনতে কোম্পানিটিকে ৩০ দিন সময় দিয়েছে বিএসইসি।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত না আনতে পারলে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এর ফলে অতিরিক্ত ১ কোটি ১ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিকে।
অপরদিকে একই ফান্ড থেকে এএফসি হেলথ লিমিটেডে আড়াই টাকা প্রিমিয়ামসহ ১২ টাকা ৫০ পয়সা দরে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট।
বিএসইসি বলছে, এতেও আইন লঙ্ঘন হওয়ায় রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ডে ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ফেরত আনতে হবে ভ্যানগার্ডকে। ৩০ দিনের মধ্যে এ অর্থ ফেরত আনতে না পারলে ১৬ কোটি টাকা অর্থদণ্ড করা হবে কোম্পানিটিকে।
আরও পড়ুন<<>>বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উর্ধ্বগতি
অর্থ ফেরত না আনলে বেঁধে দেয়া সময়ের পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধ করতে হবে ভ্যানগার্ডকে। সেটিও না করলে দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা হবে।
ভ্যানগার্ড থেকে কোম্পানি দুটোর শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে সাত কোটি টাকা বলা হলেও প্রায় ২১ কোটি টাকা ফেরত দিতে দিতে বলা হয়েছে। তবে এর ব্যাখ্যা নেই বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ডের আকার প্রায় ১৫৯ কোটি টাকা। এ মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ২০১৩ সালে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেডে দেড় কোটি টাকা এবং ২০১৭ সালে এএফসি হেলথ লিমিটেডে ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয় আইপিও (প্রাথমিক গণ প্রস্তাব) পূর্ববর্তী প্লেসমেন্ট শেয়ারে।
এ দুটি প্রতিষ্ঠান আইপিওতে আসার প্রাথমিক অনুমতি বা কনসেন্ট লেটার পেলেও চূড়ান্ত পর্যায়ে তা বাতিল করে দেয় বিএসইসি।
ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা পুরো অর্ডারটা পেলে বলতে পারব কীভাবে অর্থ হিসাব করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তহবিল ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সঞ্জিবকে রায় বলেন, বিনিয়োগের আগে বিএসইসি ও ট্রাস্টির অনুমোদন নিয়েছি। এএফসি হেলথ ও বেঙ্গল পলিকে প্রাইমারি কনসেন্ট দেয়া হয়েছিল। পরে তারা আইপিওতে আসতে পারেনি। সেখানে বিনিয়োগ করা হয় মোট সাড়ে ৭ কোটি টাকা। এখন এত বেশি অর্থ কীভাবে ক্যালকুলেশন করে ঠিক করা হল, তা ডকুমেন্ট পেলে বিস্তারিত জানতে পারব।
এদিকে একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিনিয়োগের বিপরীতে হঠাৎ করে ৯৯ শতাংশ প্রভিশন রাখার বিষয়টি আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ না করায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান মালেক সিদ্দিকী ওয়ালী অ্যান্ড কোং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































