ফাইল ছবি
এক দেশ আরেক দেশের পণ্য আটকাতে এখন আর সরাসরি ট্যাক্স বাড়ায় না বরং নানা ধরনের টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্স ও রেগুলেটরি বাধা তৈরি করে, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই নন-ট্যারিফ বাধাগুলো অতিক্রম করে বিশ্ববাজারে টিকে থাকা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে এনবিআরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগে একসময় রাজস্বের প্রায় ৯০ শতাংশ আসত কাস্টমস থেকে। এখন তা কমে ২২-২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সারা বিশ্বেই এখন শুল্কের হার কমছে। কিন্তু এর বদলে জায়গা করে নিচ্ছে নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার। তাই কাস্টমসকে এখন শুধু ট্যাক্স আদায়ের দিকে তাকালে চলবে না বরং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের মাধ্যমে বাণিজ্যের খরচ কমিয়ে এ নন-ট্যারিফ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যখনই কোনো নিয়ম সহজ করতে যাই, তখনই দেখা যায় কিছু অসাধু ব্যক্তি সে সুযোগ নেয়। তারা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে। আপনি যখন একটি ডিক্লেয়ারেশন দিচ্ছেন, সেটি যদি সঠিক না হয়, তখন কাস্টমস শতভাগ পরীক্ষা করতে বাধ্য হয়। এতে সৎ ব্যবসায়ীদেরও সময় নষ্ট হয়।
আরও পড়ুন<<>>একীভূতকরণ হচ্ছে বিডা-বেজা-বেপজাসহ ৬ প্রতিষ্ঠান
মিথ্যা ঘোষণার কারণে শুধু সরকারের রাজস্বই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তারাও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। তিনি বলেন, তাই ব্যবসায়ী কমিউনিটির প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনারা ডিক্লেয়ারেশন সঠিকভাবে দিন। আপনারা যদি স্বচ্ছতা বজায় রাখেন, তাহলে আমরাও আপনাদের দ্রুত পণ্য খালাসের নিশ্চয়তা দিতে পারব।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, একই সঙ্গে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন বন্ড সুবিধার অপব্যবহার না হয়। অনেকে বন্ডেড পণ্য খোলা বাজারে বিক্রি করেন, যা দেশীয় শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এতে যারা নিয়মিত কর দিয়ে কাঁচামাল আমদানি করেন, তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। আমরা এখন বন্ড অটোমেশন নিয়ে কাজ করছি। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় হলে একদিকে যেমন অপব্যবহার কমবে, অন্যদিকে সৎ ব্যবসায়ীদের হয়রানিও বন্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব মো. মাহবুব রহমান বলেন, বাংলাদেশে নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ারের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। সবাই ট্যারিফ ব্যারিয়ার নিয়ে কথা বললেও নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা কম হয়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দাবি থাকে ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করার। আমাদের বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিদেশিরা সমালোচনা করেন। যাত্রীদের লাগেজ এত বেশি মাত্রায় স্ক্যান করা পৃথিবীর আর কোনো দেশে দেখা যায় না। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদস্য (কাস্টমস: পলিসি ও আইসিটি) মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































