ছবি: সংগৃহীত
বরখাস্তকৃত অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাটারার সেই বাসায় মাত্র এক বোতল মদ! ওই বাসা থেকে ২৬ জন নারীসহ ৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই ছিল ভদ্র পল্লীর বাসিন্দা। সবাই মত্ত ছিল খানাপিনায়।
বহুল আলোচিত এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল পরিমান মদ, গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানায় ডিবি পুলিশ। বড় কর্তার বাসা থেকে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্যের দীর্ঘ তালিকা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিরকুটে রূপ নেয়। জব্দ তালিকায় দেখানো হলো মাত্র চারটি বোতল। একটিতে মদ। দুটিতে কিঞ্চিত পরিমান। আর অন্যটি খালি ছিল। জব্দ তালিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
কেউ কেউ বলছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে দীর্ঘ তালিকা চিরকুটে রূপ নেয়া অবশ্যই প্রশ্নবোধক।
ডিবি উত্তরা বিভাগের একটি দল ভাটারার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এ অভিযান চালায়।
বাড়িটির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহির। তিনি পুলিশ সদর দফতরে মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন। অভিযানের পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করায় কার্যত তিনি এখন ওএসডি।
আরও পড়ুন: >> বিএনপির কোন্দল, সাত মাসে ২৯ প্রাণহানি
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলছিল। বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করার কথা জানিয়েছিলেন তারা।
তবে ডিবির উদ্ধার তালিকায় দেখা যায়, অভিযানে ওই বাড়ি থেকে দেশীয় কোম্পানি কেরুর তৈরি হুইস্কির ৭৫০ মিলিলিটারের একটি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় ভারতীয় রয়্যাল স্ট্যাগ এক লিটারের একটি বোতল। ওই বোতলে আনুমানিক ৫০০ মিলিলিটার মদ ছিল। জব্দ করা হয় স্মিরনফ ভদকার এক লিটারের একটি বোতল, যাতে ২০০ মিলিলিটারের মতো মদ ছিল। আর ভারতীয় একটি কোম্পানির হুইস্কির এক লিটারের একটি বোতল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ওই বাড়ি থেকে একটি ইয়াবা বড়ি ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং একচিলতে পরিমাণ কুশ উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ডিবির জব্দ তালিকায়।
দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলার অভিযোগের বিপরীতে উদ্ধার তালিকায় মাদকের পরিমাণ খুবই সামান্য। বিশেষ করে ৮৫ জনকে গ্রেফতারের মতো অভিযানের পর উদ্ধার তালিকা দেখে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। এমন ভাষ্য খোদ ডিবি কর্মকর্তাদেরই।
অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবীর। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ওই বাড়িতে পার্টি আয়োজনের বিষয়ে আগে তাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা অভিযান চালিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি করা হতো। অভিযানের আগেই আটক ব্যক্তিরা মদ ও ইয়াবা সেবন করে ফেলেন। ফলে অবশিষ্ট মাদকদ্রব্য যা পাওয়া গেছে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
ইলিয়াস কবীর জানান, আবদুল্লাহ আল জহিরের ওই বাড়িতে ২০২৫ সাল থেকে নিয়মিত পার্টির আয়োজন করা হতো। ছয় কক্ষের বাড়িটির পাঁচটি কক্ষ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘এয়ারবিএনবি’ ও ‘ট্রাভেলা’র মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। অন্য একটি কক্ষে থাকতেন বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক। পাঁচটি কক্ষসহ পুরো বাড়িটি ১০ জনের থাকার উপযোগী করে সাজানো হয়েছিল। এক দিনের জন্য বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হতো ১৮ হাজার ৫০০ টাকায়। এর বাইরে যাঁরা পার্টিতে অংশ নিতেন, প্রত্যেককে ৬০০ টাকা করে দিতে হতো। ওই বাড়িতে মাসে ২০ থেকে ২২টি পার্টি হতো। প্রতি মাসে লাভের ৩০ শতাংশ কমিশন পেতেন মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি আর বাকি ৭০ শতাংশ পেতেন আবদুল্লাহ আল জহির।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত বিচারে সাজা দেওয়া হয়েছে। নারীদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিন দিন কারাভোগের সাজা হয়েছে। আর পুরুষদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আপন দেশ/কেএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































