Apan Desh | আপন দেশ

এলপিজির গণশুনানি এখন গণআতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২২:০০, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২২:৪৫, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজির গণশুনানি এখন গণআতঙ্ক

ফাইল ছবি, আপন দেশ

এলপি গ্যাস যেন এখন সোনার হরিণ! প্রতিদিনই বাড়ছে দাম, বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এ জ্বালানির বাজারে এমনিতেই যখন অস্থিরতা, তখন নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিইআরসির গণশুনানির ঘোষণা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিইআরসি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। তবে এ শুনানিকে ঘিরে স্বস্তির বদলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। ফের বাড়তে পারে এলপি গ্যাসের দাম।

ভোক্তাদের আশঙ্কা, দফায় দফায় দাম বাড়তে থাকলে রান্নার মতো নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোও কঠিন হয়ে পড়বে। আয় না বাড়লেও বাড়ছে সংসারের ব্যয়। এর মধ্যে এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

প্রশ্ন উঠছে, নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা না গেলে দাম নির্ধারণের সুফল পাবেন কীভাবে সাধারণ মানুষ? গণশুনানির মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হবে, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

বিইআরসির  শুনানিতে সরকারি এলপিজির দাম ও বেসরকারি এলপিজির মজুদ ও বোতলজাতকরণ খরচ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

আরও পড়ুন<<>>সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট স্থগিত, বিপাকে ১৫ হাজার যাত্রী

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকার নিউ ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল হলে শুনানি হবে।

বিইআরসি বলছে, সরকারি এলপিজির বর্তমান দাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল)। বেসরকারি খাতের কয়েকটি এলপিজি মজুদ ও বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসের দাম, মজুদ ও বোতলজাতকরণ খরচ এবং পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি এলপিজি পরিবেশক প্রতিষ্ঠান তাদের কমিশন পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

এসব প্রস্তাবের বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে বিইআরসিতে লিখিত মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে। গণশুনানিতে অংশ নিতে চাইলে একই সময়ের মধ্যে নাম নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীরা শুনানিতে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম, বোতলজাতকরণ খরচ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন নিয়ে তথ্য, হিসাব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেয়া প্রস্তাব বিইআরসির কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে। কমিশনের ওয়েবসাইটেও এসব প্রস্তাব পাওয়া যাবে।

কমিশন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কর্মসূচি দিয়েছিল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। তবে বুধবার বিইআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর ওই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সংগঠনটি। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারির ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তারা ওই কর্মসূচি থেকে সরে আসেন।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিইআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমিতির নেতাদের বৈঠকে এলপিজি খাতের সমস্যা ও ব্যবসায়ীদের দাবি পর্যালোচনা এবং সমাধানের লক্ষ্যে ২৯ অক্টোবর গণশুনানি আয়োজনের কথা বলা হয়। দাবিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্মতিতে দোকান বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। হাই কোর্টের ২০২০ সালের ২৫ অগাস্টের আদেশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে বেসরকারি এলপিজি ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১০ অক্টোবর নতুন আদেশ জারি করে কমিশন। এতে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী, সৌদি আরামকোর প্রতি মাসের ঘোষিত চুক্তিমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে মাসের প্রথম সপ্তাহে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি।

সবশেষ গত ০৪ অক্টোবর ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে কমিশন। সেপ্টেম্বরে এর দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। সরকারি সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা রয়েছে। নতুন দাম ঘোষণার পরও বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি এমন যে, এলপি গ্যাসের দাম বাড়তে বাড়তে কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সে উত্তর এখনো অনিশ্চিত। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই, গণশুনানি যেন দাম বাড়ানোর আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়