ছবি: আপন দেশ
বাগেরহাটে পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করানোয় রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন চিকিৎসক। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলম। তার চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
অভিযোগ করেছেন এশিয়া পোস্ট অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও দৈনিক আগামী সময় পত্রিকার বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি শেখ সোহেল (৩০)।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায় মৎস্য অফিসের পেছনে ১ নম্বর ক্রসরোডে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দৈনিক সকালবেলা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ এবং পল্লিবাংলা অনলাইন পোর্টালের জেলা প্রতিনিধি শিমুলও ভুক্তভোগী বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আলেয়া বেগম কানের সমস্যার চিকিৎসা নিতে ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের চেম্বারে যান। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলেন। পরে একটি হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে গেলে চিকিৎসক সেটি দেখতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন ওই রোগী। পরীক্ষাগুলো সিটি ল্যাব থেকে না করায়য় রিপোর্টটি টেবিল থেকে ছুড়ে ফেলে দেন চিকিৎসক।
আলেয়া বেগম বলেন, রিপোর্ট দেখাতে গেলে চিকিৎসক বলেন, তিনি আমার রিপোর্ট দেখবেন না। এরপর রিপোর্টটি টেবিল থেকে ছুড়ে ফেলে দেন। সেখানে থাকা এক ছেলেকে রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলেন। পরে ওই ছেলে আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি সিটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করানোর কথা বলিনি কেন। এরপর আমি সেখান থেকে চলে আসি।
আরও পড়ুন<<>>অসহায় বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাসিক প্রশাসক
রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর সাংবাদিক শেখ সোহেল ও শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ চিকিৎসকের চেম্বারে যান। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট গ্রহণ না করার কারণ এবং পরীক্ষার রিপোর্টের পার্থক্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য প্রশ্ন করা হয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই চিকিৎসক তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে গালিগালাজ ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকেরা।
দৈনিক সকালবেলা পত্রিকার বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ বলেন, রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে কিছু বিষয় জানতে আমরা তার চেম্বারে যাই। কেনো অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট গ্রহণ করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাই। বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে গালিগালাজ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। সাংবাদিক হিসেবে তথ্য জানতে গিয়ে এমন আচরণের শিকার হওয়া দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
এশিয়া পোস্টের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি শেখ সোহেল বলেন, রিপোর্টের পার্থক্য জানতে চাইলে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের গালিগালাজ ও মারধর করতে আসে। পাশাপাশি এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন তিনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
এদিকে, মোড়েলগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যক্তি জানান, তিনিও কানে কম শোনার সমস্যার কারণে ওই চেম্বারে গিয়েছিলেন। সাংবাদিকেরা সেখানে গিয়ে রিপোর্টের বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তিনি চেম্বার থেকে চলে যান। এ সময় চিকিৎসকের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি কার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছি। তিনি নিজেই যদি অসুস্থের মতো আচরণ করেন, তাহলে আমাদের কীভাবে সেবা দেবেন?
ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদেরও বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে বাগেরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক শেখ সোহেল। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ.স. মো. মাহবুবুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বাগেরহাট সদর থানার ওসি মো. সামসুল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শেখ সোহেল নামে একজন সাংবাদিক বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































