Apan Desh | আপন দেশ

বিএনপির কোন্দল, সাত মাসে ২৯ প্রাণহানি 

কাজী মুস্তাফিজ, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৬:৩৫, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপির কোন্দল, সাত মাসে ২৯ প্রাণহানি 

বিএনপির নিহত নেতাকর্মীদের কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। রাষ্ট্র পরিচলনার দায়িত্ব পাবার পর থেকেই দলীয় দ্বন্দ্বে মেতেছে দলটির নেতাকর্মীরা। গত সাত মাসে অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় ২৯ নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছে। 

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সহিংসতা। দীর্ঘ হচ্ছে মরদেহের সারি। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে-  শাসক দলের এহেন পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করছে। এর ফলে মেধাবী ও সচেতন তরুণদের একটি অংশ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। বেয়াড়া নেতাদের লাগাম এখনই না দিলে সরকার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে কি না- এ প্রশ্ন বড় হবে। 

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত মাসে দেশে অন্তত ৫১৬টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৫ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে সৃষ্ট ১৯৩টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৯ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৫৪৮ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন দলের সমাবেশ, প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়েও হামলা হয়েছে।  

যেভাবে সহিংসতা-হত্যা ঘটছে 

গত ৫ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে মো. রুবেল মিয়া ও মো. সোহেল মিয়া নামে দু’জন নিহত হন। 

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। গত ২৩ এপ্রিল উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুরের খালপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহন শেখ একই এলাকার বাসিন্দা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা যুবদল নেতা আবু জাহিদ চৌধুরী এবং শৈলকুপা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার তরিকুল সাদাতের গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।  

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় গত ৮ জুন রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক বিল্লাল হোসেন ছুরিকাঘাতে নিহত হন। পুলিশের ধারণা, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

আরও পড়ুন<> আত্মস্বীকৃত চোর প্রকৌশলী আজাদের হাতে সওজের রিমোট 

গত ১৫ জুলাই কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির পদ স্থগিত হওয়া সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় ছাত্রদলের এক নেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে ভাড়াটে অপরাধীদের দিয়ে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

গত ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর কাফরুলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন যুবদলের কর্মী মো. ইউসুফ আলী পারভেজ। হামলায় যুবদলের আরেক কর্মীসহ এক সবজি বিক্রেতাও আহত হন।

পুলিশের ভাষ্য, ময়লার ঠিকাদারি, ফুটপাতের ব্যবসা, অন্যান্য ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং টিনশেড ঘরের দখল নিয়ে বিরোধ থেকেই এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়।

কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে ভাড়াটে অস্ত্রধারী আনা হয়েছিল। তবে হামলার সময় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে পারভেজ নিহত হন।

গত ২১ জুলাই রাজধানীর সবুজবাগে ওয়ার্ড বিএনপির কর্মী ইব্রাহিম পলাশকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ১০ থেকে ১৫ জন এ হামলায় অংশ নেয়।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিএনপির কর্মী রাজু আহম্মেদ, চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী, খুলনায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহে বিএনপিকর্মী রানা মিয়া এবং বাগেরহাটে কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়লও পৃথক ঘটনায় নিহত হয়েছেন। 

সংঘাত চলছেই 

গত ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ হয়। মেয়র প্রার্থী ও খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নাফিজ আহমেদ খান রাজুর ওপর সশস্ত্র হামলা করে প্রতিপক্ষ। খোকসা থানাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির ফটকের সামনে এ হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার সময় ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর গত ১১ আগস্ট সাতক্ষীরার নগরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবাদুল ইসলামের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে এবাদুল ইসলামসহ অন্তত আটজন কর্মী-সমর্থক আহত হন।

এসব ঘটনা নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি সামনে এনেছে। 

জামালপুর বিএনপির গ্রুপ এক হালি

বিভিন্ন জেলায় অনুসন্ধানে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের নানা কারণ উঠে এসেছে। জামালপুর জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের চাপা দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দলীয় কোন্দলে সেখানে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

জেলা বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে অন্তত চারটি বলয়ে বিভক্ত। সদর আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ ওয়ারেছ আলী মামুনের নেতৃত্বে ‘মামুন গ্রুপ’, জেলা যুবদলের সদস্যসচিব সোহেল রানা খানের নেতৃত্বে ‘সোহেল গ্রুপ’, জেলা বিএনপির সহসভাপতি শামীম আহমেদের নেতৃত্বে ‘শামীম গ্রুপ’ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মিয়ার নেতৃত্বে ‘ফিরোজ গ্রুপ’ পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এমপি উঠেন ওয়ারেছ আলী মামুনের মঞ্চে।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে এ বিভক্তি আরও তীব্র হয়েছে। 

তাদের দাবি, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, স্থানীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক সুবিধা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠছে। এসব নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।  

জয়পুর হাটে রাজপথ নিরব, ফেসবুক সরব:

দলের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম। জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ এবং সার ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ পোস্টকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

গত ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দেয়া পোস্টে ফয়সল লেখেন, ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।

আরও পড়ুন <<>> মাদকবিরোধী সামাজিক সংগঠন গড়তে চান ইশরাক

তার ভাষ্য, গত ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ শেষ হয়েছে। এখন আর কিছু নেই, তাই ‘খাওয়া’ স্থগিত হয়ে গেছে।

সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, এমনভাবে ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে, যাতে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের কেউ সুযোগ পাননি। এ ক্ষেত্রে আত্মীয়দের সুবিধা দেয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

পোস্টের শেষে লেখেন, আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?

ফয়সল আলিমের বাবা আব্দুল আলিম ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ২০১৪ সালে তার মৃত্যু হয়।

ফয়সল বলেন, আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।

তবে ল্যাপটপ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত ‘পারসেন্টেজ’ এবং সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত তথ্য দেননি।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলজার হোসেন বলেন, আমি ফয়সল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তার কিছুই মনে হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সারাদেশে ছোট-বড় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে প্রায় এক লাখ মামলা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তবে সম্প্রতি মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার পর দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখার আহবান জানায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকারের পদক্ষেপগুলোকে ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তার বক্তব্য, বিভিন্ন ঘটনার পর কিছু ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে; কিন্তু সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে কার্যকর কৌশল দেখা যাচ্ছে না। 

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, সরকারের নির্দেশনা দলের একটি অংশই মানছে না। বরং বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার পৃষ্ঠপোষক বা ইন্ধনদাতা হিসেবে যাদের নাম আসছে, তা দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে।

তবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের বক্তব্য, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে কেউ রেহাই পাবেন না- এ বার্তা সবাই পেয়েছেন।

শৃঙ্খলা ফেরাতে দলীয় পদক্ষেপ

মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তাধীন।

সেদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পরে যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন<> দুদকের কয় বছরে হাইকোর্টের তিন মাস?

তবে এসব কমিটি বিলুপ্তির কারণ বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনার পর দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

দলের অভ্যন্তরে অনিয়মে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে- এমন কিছু নেতাকর্মীর তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সরকারের ভেতরে পর্যালোচনা চলছে বলে তারা জানিয়েছেন।

পাঁচ বছরের শাসনে বড় পরীক্ষা

বিএনপির সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে সরকার হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো, অন্যদিকে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সহিংসতা, দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।

শুধু ঘটনার পর কমিটি বিলুপ্ত করা বা নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নও জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও আর্থিক স্বার্থের সংঘাত মোকাবিলায় কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ক্ষমতায় ফেরার সাত মাসের মধ্যে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রাণহানি, বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ বিএনপির জন্য সতর্কবার্তা। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দল ও সরকার কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও জনসমর্থনের গতিপথ- এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

আপন দেশ/কেএম/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়