ফাইল ছবি
হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস সবারই থাকা দরকার। যার মাধ্যমে সহজেই অসুস্থতা থেকে বাঁচা যায়। হাত নানা ধরনের জীবাণু বহন করে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। তাই রোগমুক্ত থাকতে নিয়মিত সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস একটি ভালো ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি কাজ করে। তাই আসুন আজ ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে আমরা হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে অঙ্গীকার করি।
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের হাত, আমাদের ভবিষ্যৎ’। এ দিবসের মূল বার্তা হলো সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা।
দিবসটির সূচনা ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। ওই বছর ১৫ অক্টোবর সুইডেনের স্টোকহোমে বিশ্ব পানি সপ্তাহে জিএইচপি বিশ্বব্যাপী আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম এ দিবসটি পালন করা হয়। পরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দিবসটি প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা তৈরি ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য চালানো এটি একটি প্রচারণামূলক দিবস। বিশ্ব হাতধোয়া দিবসের মূল লক্ষ্য সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার একটি সাধারণ সংস্কৃতির সমর্থন ও প্রচলন করা, প্রতিটি দেশে হাত ধোয়ার বিষয়ের নজর দেওয়া ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া উভয় প্রবনতা কমাতে পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া একটি ব্যয়-স্বাশ্রয়ী উদ্যোগ। কিছু নির্দিষ্ট সময়, বিশেষ করে খাবার গ্রহণের পূর্বে বা খাবার প্রস্তুতের পূর্বে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে দুই হাত ধোয়ার মাধ্যমে ডায়রিয়ার হার প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি কমানো যায়। পাশাপাশি তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ প্রায় ২৩ শতাংশ কমানো সম্ভব।
সুস্বাস্থ্য ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসাধারনের মধ্যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা ও প্রচারের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে একযোগে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের শিক্ষা শুধু এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাড়ি, স্কুল, কর্মক্ষেত্র কিংবা খাবারের দোকান সব জায়গায় সাবান ও নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস শেখাতে হবে।
তাই আজ নিজেকেই প্রশ্ন করুন দিনে কতবার হাত ধুচ্ছেন? শুধু সংখ্যা গুনে নয়, সঠিক সময়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত পরিষ্কার করছেন কি না, সেটিও খেয়াল রাখুন। ছোট এ অভ্যাসই নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্যদেরও সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আপন দেশ/জেডআই





































