প্রতীকী ছবি
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে গত ২১ অক্টোবর পত্রিকায় ‘ডিভোর্সি বা বিধবা পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন দেন মনিরুজ্জামান। ওই বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক নারী উপসচিব যোগাযোগ করলে মনিরুজ্জামান নিজেকে ‘অগ্রণী গ্রুপ অব কোম্পানির’ করপোরেট হেড এবং একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পরিচয় দেন।
পরে মোবাইলে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিভিন্ন স্থানে দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে তাদের।
মনিরুজ্জামান বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই উপসচিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে আসামি তাকে সিলেটে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে আসামি ঢাকায় মিরপুর মডেল থানাধীন একটি আবাসিক ভবনেও একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন।
একই সঙ্গে কৌশলে ভুক্তভোগীকে সাভারের আবাসিক প্লটে বাড়ি নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করেন। বিয়ের আশ্বাসে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী নারী বিভিন্ন সময়ে নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তার কাছে পাঠান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুটি মামলা করেন। একটি প্রতারণার অভিযোগে ও অপরটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত মো. মনিরুজ্জামানকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী জিয়াউল হক সুমন বলেন, ‘আসামি ভুক্তভোগীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছে। সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’
মামলার এজাহার অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে মোট ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা আইএফআইসি ব্যাংকের একটি হিসাবে পাঠানো হয়। এ ছাড়া নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতারিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮২ লাখ টাকা। কিন্তু বাড়ি নির্মাণ কাজে গড়মিল দেখা দিলে এবং বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে মনিরুজ্জামান টালবাহানা শুরু করেন।
একপর্যায়ে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং গৃহীত টাকার হিসাব দিতেও অস্বীকার করেন। উলটো বিষয়টি নিয়ে চাপ দিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ও ১৮ ফেব্রুয়ারি একই পত্রিকায় আবারও ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন দেন। একই কৌশলে আরও অনেককে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে সক্রিয় রয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ওই নারী উপসচিব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে খুবই আপসেট। আমি খুব অসুস্থ হয়ে গেছি। এ বিষয়ে আমি পরে কথা বলব।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী মেহেদী হাসান দাবি করেন, তার মক্কেল নির্দোষ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা তদন্ত সংস্থার দায়িত্ব। ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া অর্থ বাড়ি নির্মাণের কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং কাজও আংশিক সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি থেকেই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন : বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করবে।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































