Apan Desh | আপন দেশ

এইচএসসিতে সবাই ফেল করা ১৮ কলেজে নোটিশ

নাটোর প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:২৮, ১ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২০:২৯, ১ নভেম্বর ২০২৬

এইচএসসিতে সবাই ফেল করা ১৮ কলেজে নোটিশ

ফাইল ছবি, আপন দেশ

চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি ও সমমনা) পরীক্ষায় নাটোরের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। পাঁচ দিবসের মধ্যে প্রতিবেদনসহ সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাস না করা ১৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি এমপিওভুক্ত এবং ১৬টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা ও প্রস্তুতির ঘাটতি ও অভিভাবকদেরও গাফিলতি ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ডিসেম্বরের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

এমপিওভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান হলো গুরুদাস পুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কর্মাস কলেজ,নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারিপাড়া ফাজিল মাদরাসা।

শতভাগ অকৃতকার্য্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো হলো, নাটোর সদর উপজেলায় বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়। বাগাতিপাড়া উপজেলায় পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, টিপুরিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ, গুরুদাস উপজেলায় নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস কলেজ, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য এবং বিজনেস ইনস্টিটিউট, লালপুর উপজেলার মাকড়াম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, রাধাকান্তপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, নেংগোপাড়া আলিম মাদরাসা, রামপুর জামিরিয়া আলিম মাদরাসা, সিংড়া উপজেলার আগাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাতার ভাগ স্কুল এন্ড কলেজ। 

এ বিষয়ে নলডাঙ্গার শাখারীপাড়া ফাজিল মাদরাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর ভালো ফলাফল হলেও এবার কেউ পাস না করায় তারা বিস্মিত। খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করা হবেবে বলেও জানান তিনি। 

আরও পড়ুন<<>>দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর: কুমিল্লা জামায়াতের দুই আমীরের রোকন পদ বাতিল

গুরুদাসপুরের চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের ২৩ জন পরীক্ষার্থীই বাংলা ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। তারা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করবেন এবং পরবর্তী সরকারের দেয়া সুযোগে পরীক্ষায় অংশ নিলে সবাই পাশ করবেন বলে আশা করেন তিনি।

 শিক্ষাবিদ সুবিধ কুমার মৈত্র বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও শিক্ষার্থী পাস না করা উদ্বেগজনক। এর পেছনে শিক্ষার্থী ছাড়াও পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা থাকতে পারে।

 জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী জানান, অকৃতকার্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাদের জবাবের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বছর নাটোর জেলায় উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ১৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থী পাশ করেনি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়