Apan Desh | আপন দেশ

স্কুলছাত্রী তাজমিনের হত্যাকারী সুমন গ্রেফতার

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২২:০৯, ১০ অক্টোবর ২০২৬

স্কুলছাত্রী তাজমিনের হত্যাকারী সুমন গ্রেফতার

ছবি: আপন দেশ

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে(৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

হত্যার দায় স্বীকার করে  আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সুমন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া সুমন। সেখানে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালতের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান। তিনি বলেন, বিকেলে আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে আসামি সুমন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার রাত ৭টা ২০ মিনিটে তাকে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার ( ৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় স্কুলছাত্রীকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে অটোরিকশায় তোলে সুমন। পরে লালমাইয়ের একটি ফসলি জমিতে নিয়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কুমিল্লা জেলা পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। এ সময় লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ বলছে, ওই দিন রাতে স্কুলছাত্রী সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় উঠেছিল। শর্টকাট পথে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে চালক সুমন মিয়া তাকে নির্জন ধানক্ষেতের এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের পর হত্যা করে চালক। প্রাথমিক তদন্তে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সুমনের এককভাবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে আটক করা হয়। ঘটনার পর পালিয়ে তার ভাইয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিল সুমন।

আরও পড়ুন<<>>ইউপি নির্বাচন ঘিরে যুবককে হত্যা

পুলিশ জানায়, সুমন ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতো। তার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তবে নিজের বাড়িতে জমিজমা ও ঘর না থাকায় লালমাই উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতো। বেশিরভাগ সময় রাতে পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় যাত্রী পরিবহন করতো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওই দিন রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাস থেকে নামে ওই ছাত্রী। এরপর তিশা বাস কাউন্টারের সামনে গিয়ে বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল। একপর্যায়ে ৩০০ টাকা ভাড়া ঠিক করে সুমনের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। অটোরিকশায় ওঠার পর কিছুটা সামনে গিয়ে চালককে ১০০ টাকা দেয় ছাত্রী। সে টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনে সুমন। এরপর ছাত্রীকে শর্টকাট পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সুমন। পরে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে লালমাইয়ের দিকে যেতে থাকে অটোরিকশা। সেখানে নির্জন ও অন্ধকার একটি ধানক্ষেতের পাশে অটোরিকশা থামিয়ে দেয় চালক। ওই সময় সুমন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে চিৎকার করলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে। পরে তাকে ধানক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে সুমন।

ঘটনার রাতে বাবার মোবাইল ফোনে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল ওই কিশোরী। তবে তখন তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। ভোরে বার্তাটি দেখেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করতে দেখেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, হত্যার পর ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে চলে যায় সুমন। পরে একটি পুকুরে গোসল করে জঙ্গলে কিশোরীর আইফোন রেখে চট্টগ্রামে চলে যায়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি যশোরে। পরিবারের সঙ্গে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় থাকতো।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়