Apan Desh | আপন দেশ

স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক গ্রেফতার

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৪, ৯ অক্টোবর ২০২৬

স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক গ্রেফতার

ছবি : আপন দেশ

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিন দুপুরে কুমিল্লার এসপি আনিসুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আনিসুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে সুমনকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেফতার করে। তাকে নিয়ে পুলিশ কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে আটক করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে সুমনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার সুমনের বাড়ি কুমিল্লার জয়নগর এলাকায়। তিনি পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। নিজের বাড়ি না থাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন বলে জানা গেছে। কিছুদিন আগে ঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান বলেও স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরে তাজমিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে সে নামে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও তার চলাচলের দৃশ্য পাওয়া গেছে।

তবে হোটেলের সামনে নামার পর তাজমিন কোথায় গিয়েছিল, কার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল এবং কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়া এলাকার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পরে অটোরিকশাটি জব্দ করে এর সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের একাধিক ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। অটোরিকশাটির সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং তাজমিনের মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়ুন <<>> নারী-শিশুসহ ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা

গ্রেফতার সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবে পুলিশ। এছাড়াও মামলাটির তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত, অটোরিকশার সংশ্লিষ্টতা এবং তাজমিনের শেষ সময়ের চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহত তাজমিনের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর সে আর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেনি।

পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তাজমিন তার বাবাকে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত তাজমিন।

সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন তাজমিন প্রায় ৬-৭ মাস স্কুলে অনুপস্থিত। দীর্ঘ এ সময় স্কুল ফাঁকি দিয়ে তাজমিন কোথায় যেতো, কার সাথে মিশতো এসব বিষয় তার বাবা-মা জানতো না।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়