Apan Desh | আপন দেশ

‘সব শেষ হয়ে গেল রে বাবা, এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নাই!’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:৫২, ১৪ জুলাই ২০২৬

‘সব শেষ হয়ে গেল রে বাবা, এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নাই!’

ছবি: আপন দেশ

টানা বুকভাঙা বৃষ্টি আর পাহাড় থেকে নেমে আসা মরণঢল যেন এক লহমায় কেড়ে নিয়েছে হাজারো মানুষের আজীবনের স্বপ্ন। চট্টগ্রামজুড়ে বন্যার পানি এখন ধীরে ধীরে নামছে সত্যি, কিন্তু রেখে যাচ্ছে কেবলই এক মহাশ্মশানের নীরবতা।

পানি যত কমছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বানের তোড়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়া এক বিপর্যস্ত জনপদের করুণ ছবি। কোথাও মাটির ঘর ধসে পড়ে আছে কাদার স্তূপে, কোথাও বুক ফেটে চৌচির হওয়া রাস্তাঘাট। যে জমিতে কদিন আগেও সবুজের সমারোহ ছিল, তা এখন শুধুই ধু-ধু বালুচর। কোটি টাকার মাছের ঘের আর পোলট্রি খামার হারিয়ে নিঃস্ব মানুষগুলোর বোবা কান্না আর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের বাতাস।

সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত নেমে এসেছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার ওপর। সাতকানিয়ায় সোমবার থেকে পানি কমায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরের টানে ফিরছেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক চরম নির্মমতা। কাদা আর আবর্জনায় একাকার হয়ে আছে চেনা ঘরটি, নষ্ট হয়ে গেছে শেষ সম্বলটুকু। থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই, নেই এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি বা দুমুঠো অন্ন।

‘সব শেষ হয়ে গেল রে বাবা, এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নাই!’- ধসে পড়া কাঁচা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধার এমন আহাজারি যেন পুরো এলাকার চিত্র।

সাতকানিয়ার ১৮টি ইউনিয়নের ৮৫ শতাংশ এলাকাই এখন ধ্বংসস্তূপ। অন্যদিকে বাঁশখালীর চিত্র আরও শোচনীয়। এখনও সেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবেই চার হাজারেরও বেশি কাঁচা ঘর ধসে মাটির সঙ্গে  মিশে গেছে। দুর্গতদের অভিযোগ, সরকারি ত্রাণ যা মিলেছে তা সমুদ্রের মধ্যে এক ফোঁটা জলের মতো অপ্রতুল; বহু মানুষের কপালে জোটেনি এক দানা চালও। কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর পরিবারগুলো এখন ক্ষুধার জ্বালায় দিশেহারা।

চট্টগ্রাম মহানগরসহ ১৬টি উপজেলাই এ প্রলয়ংকরী বন্যার শিকার। জেলাজুড়ে এ পর্যন্ত পাহাড়ধস ও বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন অভাগা মানুষ। ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনও প্রায় ১৭ হাজার মানুষ চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন সাহায্যের আশায়। যদিও জেলা প্রশাসন থেকে চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই সামান্য। প্রকৃতির এ নির্মম থাবায় চুরমার হয়ে যাওয়া লাখো মানুষের জীবনে কবে আবার স্বাভাবিকতার আলো ফিরবে, তা এখন এক মস্ত বড় প্রশ্ন।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়