ফাইল ছবি
গত ১৩ জুলাই দেশজুড়ে তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে অনুষ্ঠিত এইচএসসি’র পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা দেশের লাখ লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
একদিকে ভয়াবহ বন্যা ও অভূতপূর্ব জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে প্রশ্নপত্রের নজিরবিহীন ভুল ও জটিলতা- এ দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে পরীক্ষার্থীরা এখন মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষা করতে এই পরীক্ষাটি বাতিল করে পুনরায় গ্রহণের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
পরীক্ষাটি ফের নেয়ার সপক্ষে অকাট্য যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
দুর্যোগে প্রস্তুতিহীনতা ও যাতায়াত সংকট: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে, প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে হয়েছে। নাটোরের এক পরীক্ষার্থী মাত্র ১৫ মিনিট দেরির কারণে হলে ঢুকতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে, যার পুরো বছরটিই এখন হুমকির মুখে। বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থীরা ঘরবাড়ি ও বইপত্র হারিয়ে বিদ্যুৎহীন-খাদ্যহীন অবস্থায় পরীক্ষার ন্যূনতম প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগটুকুও পায়নি। ভেজা শরীরে ও তীব্র ট্রমা নিয়ে দেয়া এ পরীক্ষা কোনোভাবেই তাদের প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হতে পারে না।
ভুল প্রশ্ন ও উচ্চশিক্ষার স্বপ্নভঙ্গ: অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নসহ প্রশ্নপত্রে গুরুতর ভুল ছিল এবং তা ছিল অত্যন্ত কঠিন। বুয়েট, মেডিকেলসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদনের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে ৯০-এর ওপরে নম্বর পাওয়া আবশ্যক। যেখানে এ কঠিন ও ভুল প্রশ্নে পাস করাই যুদ্ধ, সেখানে কাঙ্ক্ষিত নম্বর না পেয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন শুরুতেই চুরমার হয়ে যাবে। পরীক্ষার হল থেকে রাজধানীর নটর ডেম বা ভিকারুননিসার মতো নামী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও কাঁদতে কাঁদতে বের হতে দেখা গেছে।
বোর্ডের দায়সারা বিজ্ঞপ্তি ও গণক্ষোভ: ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ত্রুটি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিয়ে স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু এ দায়সারা আশ্বাসে ক্ষোভ কমেনি। অভিভাবক নাজমুল হুদা রাজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভালো ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও আমার ছেলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।’ প্রশ্ন হলো, ভুল ও কঠিন প্রশ্নের কারণে হলে যে মানসিক ট্রমা শিক্ষার্থীরা পার করেছে এবং যে সময় নষ্ট হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ কেবল 'ফ্রি নম্বর' দিয়ে কীভাবে সম্ভব?
এটি কেবল একটি পরীক্ষা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের স্বপ্ন। ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্ন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের বলি বানিয়ে পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার মতো চরম পথের দিকে ঠেলে দেয়া যায় না। তাই বোর্ড ও সরকারের উচিত কোনো অজুহাত না দেখিয়ে মানবিক ও যৌক্তিক কারণে ১৩ জুলাইয়ের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষাটি অবিলম্বে পুনরায় গ্রহণ করা।
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































