ছবি: আপন দেশ
আহবায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাস ও কাউন্টার।
উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে অন্তত চারজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে জকিগঞ্জ-জাফলং রুট এবং মিতালি পরিবহন, হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস ও জগন্নাথপুর রুটের শ্রমিকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর রুটে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা মারা যাওয়ার পর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে স্থান না পাওয়া মোহাম্মদ শাহজাহানের পক্ষের শ্রমিকরা জোরপূর্বক কার্যালয় দখলের চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন<<>>প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ উত্তেজনার জেরে শাহজাহানকে ধাওয়া দিলে জকিগঞ্জ রুটের শ্রমিকরা জগন্নাথপুর রুটের কয়েকজন শ্রমিককে মারধর করে। পরে জকিগঞ্জ রুটের শ্রমিকদের প্রতিহত করতে গিয়ে জাফলং রুটের শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায় ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী মিতালি পরিবহন ও হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের শ্রমিকরা। এ সময় অন্য রুটের শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাফলং রুটের এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, তারা সংঘর্ষে জড়িত না থাকলেও মিতালি পরিবহনের শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বাস ও কাউন্টার ভাঙচুর করেছে।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরে তা বিভিন্ন রুটের শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এখন কে কাকে আক্রমণ করছে, তা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, চতুর্দিক থেকে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিল না। এজন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, শ্রমিক সংগঠনের এক নেতার মৃত্যু পরবর্তী আহবায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানে আলোচনা চলছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকেল ৪টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ সময় বৃষ্টিপাত শুরু হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।






















