ছবি: আপন দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে গিয়ে জামিল আহমেদ লিমন (২৭) নামের এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত লিমনের বাড়ি উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষ বাথান পূর্ব বিনোদটঙ্গী লালডোবা এলাকায়। তবে তার শৈশব কেটেছে গাজীপুরের মাওনা এলাকায়। তিনি উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের পূর্ব বিনোদটঙ্গী লালডোবা এলাকার জহুরুল হকের ছেলে।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে তারা সেখান থেকে ঢাকায় চলে যান। লিমনের বাবা জহুরুল হক পড়া-লেখা করা অবস্থায় গাজীপুরের মাওনা এলাকায় যান। সেখানে পড়ালেখা শেষ করেন এবং বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তাদের ঘরের প্রথম আসেন জামিল আহামেদ লিমন। লিমনের বাবা জহুরুল হক একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
নিহত শিক্ষার্থী লিমনের বাবা জহুরুল হক বর্তমানে তার ছোট ছেলে জোবায়ের হোসেন আরফিনকে নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় বসবাস করছেন। আর লিমন সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করতে গিয়েছিলেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লিমনে মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা লিমনের মরদেহ ফেরত পেতে অধির আগ্রহ নিয়ে চেয়ে আছেন। তবে গ্রামের বাড়িতে নেই লিমনের বাবা-মা ও ভাই। তাদের ঘরে ঝুলছে তালা। চাচা-চাচীসহ স্বজনদের দাবি লিমন হত্যার সঠিক বিচারের।
স্বজনরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন জামিল আহমেদ লিমন ও তার বন্ধু নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তারপর তাদের আর খোঁজে পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার জামিল আহামেদ লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ।
লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ভূ-তত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যান। সেখানে তিনি সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছিলেন।
আরও পড়ুন <<>> শীর্ষ সন্ত্রাসী দেলোয়ার ইয়াবাসহ গ্রেফতার
অপরদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার লেখা শেষ করে তিনিও উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন। নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। আর নিহত জামিল আহমেদ লিমনের নানা বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তাফাপুর এলাকায় বলে জানা গেছে।
জামিলের বাল্যবন্ধু জসিম উদ্দিন জানান, ছোটবেলা থেকেই জামিল মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তবে বর্তমানে তার পরিবার ঢাকার অন্য একটি স্থানে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের জেঠা জিয়াউর হক বলেন, আমার ভাতিজা ছোটবেলা থেকে ঢাকায় বড় হয়েছে। মাঝেমধ্যে এলাকায় বেড়াতে আসত। আমরা শুনেছি, এ ঘটনায় এক মেয়েও নিখোঁজ রয়েছে, যার বাড়ি মাদারীপুরে।
নিহতের জেঠি আকলিমা আক্তার বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে লিমন বড় ছিল। ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী ছিল। তার স্বপ্ন ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর তার বিয়ের কথা ছিল। আমরা পাত্রীও দেখছিলাম। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই, আর তার মরদেহ দেশে ফেরত চাই।
নিহতের চাচা আল আমিন বলেন, গত বুধবার জামিলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। পরে বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি, তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর শুনেই ঢাকায় বড় ভাইয়ের কাছে চলে এসেছি।
জামিল আহামেদ লিমনের মা লুৎফুন নেছা লতা মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেছেন, আমার ছেলের সাথে শেষ কথা হয়েছিল পহেলা বৈশাখে। ও খুব পড়াশোনার চাপে থাকত, তেমন কথা হতো না। সেদিন ফোন দিয়ে শুধু জানতে চাইলো, পান্তা-ইলিশ খেয়েছি কি না। আমার ছেলের সাথে কারো কোন শত্রুতা ছিল না। এখন আর কিছু বলার শক্তি নেই।
তিনি আরও জানান, ছেলেকে হারানোর শোকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
প্রসঙ্গত, নিহত জামিল আহমেদ লিমন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ভূগোল, পরিবেশ ও নীতি বিভাগে এবং নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। ১৬ এপ্রিল সকালে নিখোঁজ হওয়ার পরে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়াকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































