ছবি: আপন দেশ
পানি সংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সারাদেশে নদী, খাল ও জলাশয় খনন কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারেও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার প্রামাণিক পাড়ায় ঝিনাইকুঁড়ি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। জলাবদ্ধতা কমবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান শহীদ জিয়ার পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের সাহাপাড়ায় সারাদেশব্যাপী খাল খনন অভিযানের উদ্বোধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইকুঁড়ি খালটি একসময় প্রবাহমান নদী ছিল। সময়ের সঙ্গে এটি ভরাট হয়ে গেছে। বর্তমানে নদীর সে চিত্র আর নেই।
এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জলাবদ্ধতা দূর হবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদাও পূরণ হবে।
তিনি আরও বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। ড্রেজার মেশিনের বদলে শ্রমিক দিয়ে কোদাল ও টুকুরি ব্যবহার করে খনন কাজ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় হাজারো মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আরও পড়ুন <<>> বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে পুড়ল ২৪ দোকান
প্রতিমন্ত্রী জানান, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু পানি ব্যবস্থাপনা নয়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি মৎস্য চাষ, হাঁস পালন এবং স্থানীয় জীবিকায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে। খালের তীর ঘিরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেয়া হবে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। আগে ২০-২৫ ফুট খনন করলেই পানি পাওয়া যেত। এখন অনেক স্থানে ৬০ ফুট খনন করেও পানি মিলছে না। খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার করলে পানির স্তর স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক খাল ও জলাশয় দখল হয়ে গেছে। এসব পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় খালগুলো দখলমুক্ত করে জনসাধারণের কাজে ব্যবহার উপযোগী করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হলে পানি সংকট কমবে। কৃষি উৎপাদন বাড়বে। গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলামসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ তারা, সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































