ছবি সংগৃহীত
নির্বাচন না হলে দেশের জন্য ‘খুব ভয়ংকর পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। তার মতে, নির্বাচনবিরোধী শক্তি ‘খুব শক্তিশালী’ এবং তারা নানাভাবে ভোট বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামে এক আলোকচিত্র প্রদশর্নীর অনুষ্ঠানে তিনি এমন পর্যনেবক্ষণ তুলে ধরেন।
বিশ্বব্যাপী বদলে যাওয়া বাস্তবতায় সংবাদপত্র শিল্পের সংকটের চিত্র তুলে ধরে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, সংবাদপত্র সারাবিশ্বে একটা গভীর সংকটে। প্রথম আলো ওই দিক থেকে একটা সংকটে। আর প্রথম আলোর সমস্যা তো এ সাংবাদিকতা জগতের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরেকটু বেশি সমস্যায় পড়ে গেছে। আপনারা জানেন, বিগত মাসের ১৮-১৯ তারিখে আমাদের অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এবং আরো চাপ, আরও সময়ের সংকটের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। শুধু প্রথম আলো কেন, সারা বাংলাদেশই একটা সংকট সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বর্ষীয়ান এ সম্পাদক বলেন, ভবিষ্যতে ঠিক কী হবে, আমরা কেউ নিশ্চিত বলতে পারি না। আমরা সবাই নির্বাচন চাচ্ছি; নির্বাচন হওয়া দরকার। নির্বাচন হলে কিছু একটা হবে। কিছু একটা, স্থায়ী ভবিষ্যত সুন্দর না ভাবলেও, একটা পরিবর্তন হতে পারে, এ আশায় আমরা মনে করি যে নির্বাচনটা হওয়া দরকার। তবে এ সময়ে একটা কথা, এ নির্বাচন না হওয়ার শক্তি অনেক শক্তিশালী মনে হয়। তারা নানাভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সেদিকে আমি বলব, নির্বাচন না হলে অবস্থা আমাদের জন্য, দেশের জন্য একটা খুব ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
তিনি বলেন, সেজন্য আমি আপনাদের কাছে অনেক অনিচ্ছা, অনেক অনিশ্চয়তা হতাশার মধ্যেও বলব যে, আপাতত এ নির্বাচনটা আমাদের জন্য জরুরি। এটা হওয়া দরকার, হওয়া উচিত। আসলে খুব উৎসাহজনক কিছু বলার মতো মনের ভিতরে নাই। ভালো যায় না সময়। ভালো নাই, ভালো থাকি না। ভালো থাকার মতো অবস্থা নাই। এখানে শিল্প, সঙ্গীত, সংস্কৃতির কথা এলো, সেগুলোর অবস্থাও খুব ভালো না। আগামী দিনগুলো কী হবে, আমরা বলতে পারব না। স্কুল কলেজে গান বন্ধ, নাচ বন্ধ, শিক্ষক নেয়া বন্ধ। নানা জায়গায় নানা সংস্কৃতির অনুষ্ঠানে হামলা ঝামেলা সংকট। এ সবকিছুর কোনো কিছুই খুব একটা ভালো সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় না। আমার যেন সতর্ক থাকি, সচেতন থাকি। আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে ভালো থাকার জন্য সব মিলিয়ে।
ষাট ও সত্তরের দশকে বাংলাদেশের আলোকচিত্র শিল্পীরা অনেক সাড়া জাগানো ছবি তুলেছিলেন মন্তব্য করে মতিউর রহমান বলেন, আমাদের বাংলাদেশের চিত্রকলা শিল্পীদের মধ্যে প্রথম যুগে যারা ছিলেন, তারা শুরুতে দরিদ্র পীড়িত মানুষের ছবি আঁকতেন। তার পিছনে ছিল জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসানদের মতো শিল্পীদের ভূমিকা। তারা তাদেরকে অনুপ্রাণিত করতেন যে, মেহনতি মানুষের কাছে যাও। আজকাল আমরা অনেক ছবি, অনেক প্রদর্শনী দেখি। যেখানে সাধারণের চেয়ে উঁচু আরো উঁচু বিশেষ প্রদর্শনী হয়। সেখানের চেয়ে যদি নিচের দিকে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের জীবনের কাহিনী দেখাতে পারি, তাহলে সেটা অন্য মাত্রা পায়। তাহলে তাদের জন্য কিছু তাগিদও তৈরি হয় আমাদের মধ্যে।
মতিউর রহমান বলেন, আজকের দিনে যে সমাজ, পাঠক পত্রিকা পড়তে চায় না। বাংলাদেশে মানুষ এখন অনলাইন পত্রিকার খবরও পড়তে চায় না। গত এক বছরে সারাবিশ্বে ৩০ শতাংশ পাঠক কমেছে অনলাইনে। কারণ বিশ্বাস করে না, অতিকথা, মিথ্যা কথা ও অপপ্রচারের কারণে। অবিশ্বাসযোগ্যতা চলে আসছে। এখন মানুষ পত্রিকা পড়ে না, অনলাইনও পড়তে চায় না। এখন কবিতার বই বাংলাদেশে পড়ে না। গল্পের বই পড়ে না, উপন্যাস পড়ে না। আমাদের একটা প্রকাশনা আছে, ১৬ বছর ধরে করি। ভালো ছিল; আয় করে চলতাম। গত বছর দেড় কোটি টাকা লোকসান করেছে।
প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, এখন মানুষ দেখতে ও জানতে চায় সরাসরি। লেখালেখির মধ্য দিয়ে না। সেজন্য দেখেবেন ভিডিও, শর্টস, রিলস খুব জনপ্রিয় এখন। সময়টা একদম পাল্টে গেছে। এর প্রভাব রাজনীতি সংস্কৃতি লেখালেখি জীবন- সর্বত্র। নতুন সময়ের সঙ্গে সামলে চলাটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম শিল্পকলা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গনে সৌরভ দাশের আলোকচিত্র প্রদশর্নী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে অংশ নেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন ও আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকী।
প্রথম আলোর আলোকচিত্রী সৌরভ দাশের প্রথম আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘দৃষ্টিতে সৃষ্টি’ শুক্র ও শনিবার শিল্পকলা অ্যাকাডেমির আর্ট গ্যালারিতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনী চলবে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
‘স্লো শার্টার’ এ তোলা ছবিগুলোতে স্থিরতা ও গতির মেলবন্ধনে তুলে ধরা হয়েছে মানুষ, সময় ও প্রকৃতির নানা চিত্র।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































