ছবি : আপন দেশ
মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশের উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রাম। শীতে একেবারে জবুথবু হয়ে পড়ছে এ অঞ্চলের মানুষসহ প্রাণিকুল। চলতি জানুয়ারি মাসে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ জেলা জুড়ে বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, এদিন সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। এর আগে মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে করে গত দুই দিনে তাপমাত্রা কমেছে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হয়ে জেলা জুড়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে আরও এক থেকে দুটি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সর্বোচ্চ হওয়ায় ও উত্তরীয় হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পরেছে এ অঞ্চলের মানুষ।
এ অবস্থায় পৌষের শেষে এসে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে উত্তরের এ জনপদ। সে সঙ্গে উত্তরের হিমালয় থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় জেলাটিতে মৃদু ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। মহাসড়কে দূর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
আরও পড়ুন<<>>মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপাকে নওগাঁবাসী
হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় চরম বিপাকে পরেছেন খেটে-খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। কনকনে ঠান্ডার কারনে সময়মতো কাজে যেতে না পারায় উপার্জন কমেছে অনেকের ফলে। ফলে পরিবার নিয়ে কষ্ট রয়েছে এসব শ্রেণি পেশার মানুষ।
কুড়িগ্রাম সদরের ধরলা নদীর বাঁধে বসবাসরত রাজমিস্ত্রী আমজাদ হোসেন বলেন, এ হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা ও ঘনকুয়াশায় কাজকাম করা খুবই অসুবিধা। ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। অভাবী সংসার কাজকাম না করেও উপায় নেই। ঠান্ডায় কাজকামও কমে গেছে। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।
চর ভেলাকোপা এলাকার গৃহকর্মী লাইলী বেগম বলেন, অন্যের বাড়ীতে কাজে যাচ্ছি। ঠান্ডায় গা কাঁপছে। শরীর অবশের মতো হয়ে যাচ্ছে। হাত-পা ব্যথা করতেছে। আমরা গরীর মানুষ কাজকাম না করলে খাবো কী?
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার একতা পাড়ার গৃহবধূ সালেহা বেগম বলেন, ঠান্ডায় অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে বিপদে আছি। এ ঠান্ডায় কেউ একটা শীতবস্ত্রও দিলো না। এ এলাকার সব মানুষই অভাবী। এখানকার খোঁজ খবর কেউ নেয় না।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, ইতোমধ্যে জেলার নয়টি উপজেলায় ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষ বলছেন, এ সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































