ছবি সংগৃহীত
চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দারুন প্রতিযোগিতা চলছে আর্জেন্টাইন সুপারষ্টার লিওনেল মেসি ও ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে। এ দুই তারকার মধ্যে চলছে গোলের প্রতিযোগিতা। একবার মেসি এগিয়ে যাচ্ছেন তো, পরের ম্যাচে তাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন এমবাপ্পে।
শেষ ষোলোর ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলে শেষ পর্যন্ত মেসির নৈপুণ্যে শেষ আটে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। কোয়ার্টার ফাইনালে যেন সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলেন এমবাপ্পে। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে তার নৈপুণ্যেই মরক্কোর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (১০ জুলাই) ভোরের দিকে বোস্টনের স্টেডিয়ামে শেষ হওয়া চলমান বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা। ফ্রান্সের জয়ে একটি গোল করেন এমবাপপ্প, অন্য গোলটি আসে উসমান দেম্বেলের পা থেকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। তবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো একের পর এক দুর্দান্ত সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। তবে প্রথমার্ধেই নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। মাইকেল অলিসের নিখুঁত পাস ধরে গতি বাড়িয়ে বক্সে ঢুকতেই ফাউলের শিকার হন এমবাপপ্প। তবে স্পটকিক থেকে নিচু শট নিলে দারুণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন বুনো।
শুধু পেনাল্টিই নয়, প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল ফ্রান্স। দেজিরে দুয়ের শট ঠেকান বুনু, লুকা দিঁনের চিপ ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বলের দখলেও সামান্য এগিয়ে ছিল মরক্কো (৫০.৯ শতাংশ), কিন্তু পুরো প্রথমার্ধে তারা একটি শটও নিতে পারেনি। ফ্রান্সই তৈরি করেছিল পাঁচটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ।
বিরতির পর আর ভুল করেনি দিদিয়ের দেশমের দল। ৬০তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের ভেতরের অংশে নেয়া এমবাপপ্পর অসাধারণ বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় দূরের কোণে। বুনোর কোনো সুযোগই ছিল না বলটি ঠেকানোর।
এ গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়াল আটে। এতে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সমান গোল করলেও বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক।
আরও পড়ুন<<>>মিসরকে ‘ডাকাতি’ করে হারানো হয়েছে: মামদানি
একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ও জমে উঠেছে। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের বিশ্বকাপ গোল এখন ২০টি, আর ৩৯ বছর বয়সী মেসির ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড ২১ গোল।
এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বর্তমান ব্যালন ডি'অরজয়ী দেম্বেলে। মরক্কোর রক্ষণভাগ ভেদ করে নিচু শটে গোল করেন তিনি। বুনো বল ছুঁতে পারলেও তা জালে জড়ানো ঠেকাতে পারেননি।
ফ্রান্সের আক্রমণে এদিন বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন দেজিরে দুয়ে। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ছিলেন সৃজনশীল, বারবার তৈরি করেছেন সুযোগ। অন্যদিকে বিশ্বকাপের অন্যতম আবিষ্কার ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুয়াদ্দি ৬১ মিনিটে ক্লান্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন। কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলে অনেকটা সময় নিজের স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারেননি তিনি।
তবে ফরাসি শিবিরে শেষদিকে কিছুটা দুশ্চিন্তাও দেখা দেয়। ৭৬তম মিনিটে ডান গোড়ালিতে অস্বস্তি অনুভব করায় এমবাপ্পেকে তুলে নেন দেশম। মরক্কোর ইসা দিয়োর শক্ত ট্যাকলের পর থেকেই খুঁড়িয়ে চলছিলেন তিনি। সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখেই হয়তো ঝুঁকি নিতে চাননি ফরাসি কোচ।
মরক্কো শেষদিকে কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। এল আইনাউইয়ের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর উনাহির একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন মাইক মেনিয়ান।
দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স সেমিফাইনালে আগামী মঙ্গলবার ডালাসে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার কোয়ার্টার-ফাইনালের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































