Apan Desh | আপন দেশ

অদম্য নরওয়ের মুখোমুখি আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:১০, ৫ জুলাই ২০২৬

অদম্য নরওয়ের মুখোমুখি আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল

ছবি সংগৃহীত

হারলেই বিদায়, জিতলে মিলবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট। এমন সমীকরণ সামনে রেখে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। রোববার (০৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মাঁচা মরার ম্যাচটি শুরু হবে। 

যদিও বৈরি আবহাওয়ার আশঙ্কার কারণে হাইভোল্টেজ এ ম্যাচটির সময় পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের পরাশক্তি নরওয়ে। 

কাগজে-কলমে এবং সামগ্রিক শক্তির বিচারে ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখছেন অধিকাংশ ফুটবল বিশ্লেষক। তবে মুখোমুখি পরিসংখ্যান সেলেসাওদের জন্য মোটেও সুখকর নয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এ পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে দুটিতে জয় পেয়েছে নরওয়ে এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ ইতিহাসে এখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল।

দুই দলের প্রথম দেখা হয় ১৯৮৮ সালে, ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এরপর ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে চমক দেখায় নরওয়ে। সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি হয় ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, যেখানে কিয়েতিল রেকদালের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল নরওয়ে। সর্বশেষ ২০০৬ সালের প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।

বর্তমান ফর্মের বিচারে আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল। শেষ বত্রিশে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। অন্যদিকে আইভরি কোস্টকে একই ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেয়েছে নরওয়ে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। শেষ ষোলোর সর্বশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে তারা। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউটে কোনো ইউরোপীয় দলকে হারাতে পারেনি সেলেসাওরা।

তবে পরিসংখ্যানের বাইরে ব্রাজিলের জন্য বড় সতর্কবার্তা হতে পারেন হলান্ড। নরওয়ের এ তারকা স্ট্রাইকার টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন। এ সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫। চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে আছেন তিনি।

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির রণ পরিকল্পনায় বড় অংশজুড়েই থাকার কথা হলান্ডকে নিষ্ক্রিয় রাখার উপায়। তবে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তির জোর দিয়েই বললেন, শুধু এই স্ট্রাইকারকে ঘিরেই অতি ব্যস্ত নন তিনি। আমি মনে করি না যে ‘অ্যান্টি-হলান্ড’ কোনো পরিকল্পনা এখানে আছে। কীভাবে রক্ষণ সামলাতে হবে, আমার ছেলেদেরকে তা বলার প্রয়োজন নেই। তারা কয়েকবার পরস্পরের মুখোমুাখ হয়েছে এবং কাজটা জানে। আমাদের দল সর্বোত্তম অবস্থায় আছে। তবে, হ্যাঁ আমাদের উন্নতি চালিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুন<<>>অপ্রতিরোধ্য এমবাপ্পে, কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

তিনি বলেন, সবাই জানে সে (হলান্ড) কীভাবে খেলে। তার বিপক্ষে কীভাবে খেলতে হবে, তা আমার ডিফেন্ডারদের বুঝিয়ে বলার কিছু নেই। তারা স্পষ্টতই তার বিপক্ষে বেশ কয়েকবার খেলেছে, তাই আমরা শুধু ম্যাচের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত থাকা, প্রতিপক্ষের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো বোঝা এবং তাদের আক্রমণভাগের বিপজ্জনক দিকগুলো বোঝার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।

অন্যদিকে আর্লিং হলান্ড নামের গোলমেশিন নিয়ে এবার আরও আত্মবিশ্বাসী নরওয়ে। তবে, নরওয়ে কোচ স্তল সুলবাকেন মনে করেন, স্নায়ুর চাপ সামলে, রক্ষণ জমাট রেখে খেলতে হবে তাদের।

তিনি বলেন, আমার মনে হয়, হলান্ডকে সহযোগিতা করার এবং তাকে বলের জোগান দেওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছি আমরা। আমরা এমন একটা দল, যারা ব্রাজিলের জন্য অপেক্ষা করতে পারি না। কেননা, আমরা আক্রমণাত্মক মানসিকতার দল। ব্রাজিলের বিপক্ষে ৯০ বা ১২০ মিনিটের খেলায়, আমাদের স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণ সামলাতে হতে পারে, তখনও আমাদের সেরা পর্যায়ে থাকতে হবে।

নরওয়ে কোচ বলেন, আমি মনে করি না, তারা খুব বড় (মাপের দল), বিশাল ফেভারিট, কয়েক বছর আগে যেমনটা ছিল…লম্বা সময় ধরে আমরাও ভালো ছন্দে ছুটছি এবং দারুণ আত্মবিশ্বাস আছে আমাদের। বল পায়ে আমাদের খেলার ভালো একটা ধরন আছে এবং আমি মনে করি, এটা আমাদের সাহায্য করে।

নেইমারকে নিয়ে ধোঁয়াশা
এদিকে কাফ ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে আসা নেইমার এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমার খেলতে প্রস্তুত থাকলেও পুরো ম্যাচ খেলার মতো ফিট কি না, সেটি নিশ্চিত নয়।

আনচেলত্তি বলেন, নেইমার খেলতে না পেরে সন্তুষ্ট নয়, তবে সে ধৈর্য ধরে অনুশীলন করছে এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রয়োজন হলে ম্যাচের যেকোনো সময় তাকে মাঠে নামানো হবে।

এদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও নেইমারকে একসঙ্গে মাঠে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ইতালিয়ান এ কোচ। তবে রাফিনিয়া ও পাকেতাকে নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। ডান উরুর চোটের কারণে রাফিনিয়ার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। নকআউট ম্যাচের আগে কয়েকদিন দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলন করতে পারেননি বার্সেলোনার এই উইঙ্গার। ম্যাচের আগে তার ফিটনেস পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে জাপানের বিপক্ষে চোট পাওয়া মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার খেলাও অনিশ্চিত। তবে রায়ানের অনুশীলনে অনুপস্থিতি চোটজনিত নয় বলে জানিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন।

ব্রাজিলের আক্রমণে থাকবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েস, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি এবং সুযোগ পেলে নেইমার। অন্যদিকে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হালান্ড। তাকে সহায়তা করবেন মার্টিন ওদেগার্ড ও আলেকজান্ডার সোরলোথ।

জাপানের বিপক্ষে জয়সূচক গোলে অবদান রাখা ব্রুনো গিমারায়েস চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৭০ সালে পেলের ছয় অ্যাসিস্টের পর এক আসরে ব্রাজিলের হয়ে এটি অন্যতম সেরা রেকর্ড।

আপন দেশ/জেডআই

 

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়