তাসকিন আহমেদ
দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অন্যতম ভরসা হয়ে ছিলেন স্পিনারর। তবে অতি সম্প্রতি এ আস্থার জায়গায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে দেশে অথবা বিদেশে টাইগারদের এগিয়ে নিচ্ছেন পেস বোলাররা। সর্বশেষ ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তাসকিন, মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানারা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এ জয়ের নেপথ্যে ছিলেন পেসাররা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেটের ৬টিই নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ম্যাচেও তিন পেসার মিলে শিকার করেছিলেন ৭ উইকেট।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ যে সংস্করণেই খেলুক না কেন, নতুন বলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয়ার কাজটা করে দিচ্ছেন পেসাররাই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র দুই ওভারের মধ্যে শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। এমন ধারাবাহিক সাফল্যের কারণেই নিজের বোলিং ইউনিটকে বিশ্বের সেরাদের কাতারে দেখছেন তাসকিন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাসকিন বলেন, আমার বিশ্বাস টপ থ্রিতে থাকার মতো পারফরম্যান্স আমরা করছি।
এ পেসার আরও যোগ করে বলেন, একটা সময়ে গিয়ে তো আমরা কেউ খেলব না। এটাই হচ্ছে পাওয়া যে এরকম ফাস্ট বোলিং ইউনিট হইছে। এটা যাতে ফিউচারে আমরা উপরের দিকে নিয়ে যেতে পারি। ওয়ার্ল্ড কথা বলতেছে আমাদের ফাস্ট বোলিং গ্রুপ নিয়ে, এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
তাসকিনের এ আত্মবিশ্বাস কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, এসেছে ধারাবাহিক উন্নতির ফল হিসেবে। নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলামদের নিয়ে গড়ে ওঠা পেস ইউনিট এখন শুধু উপমহাদেশেই নয়, বিশ্বের যেকোনো কন্ডিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রাখে বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন<<>>রোমাঞ্চকর জয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার
তিনি বলেন, এটা তো বলতে পারছি না, যে কন্ডিশনে যাব তখন কে কেমন কন্ডিশন বানায়। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের গ্রুপে ওই ভ্যারিয়েশনসটা আছে। যেমনই কন্ডিশন হোক, অ্যাডাপ্ট করার এবিলিটিটা আছে। এখন আল্লাহ যাতে সবাইকে সুস্থ রাখে, সবার রিদম ভালো থাকে। তাহলে ভালো করা যাবে। তবে কিছুটা হলেও হয়তো চিন্তা করবে সিমিং উইকেট বানাইতে।
পেস বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মোস্তাফিজুর রহমান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নতুন বলে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের ভিত গড়ে দেন বাঁহাতি এ পেসার। সাধারণত নতুন বলে খুব বেশি ব্যবহার করা না হলেও, অভিজ্ঞতার জোরে যেকোনো দায়িত্ব সামলাতে পারেন মোস্তাফিজ এমনটাই মনে করেন তাসকিন, ফিজ তো অলওয়েজ চিল গাই। আসলে এক্সপেরিয়েন্স যে ম্যাটারস, সেটাতে ওর বোলিং দেখলে বুঝা যায়। এতদিন ধরে খেললে যখন নতুন বলে আসে, টিমের প্রয়োজন হয়, সে তার বেস্টটা দিয়ে ট্রাই করে।
মোস্তাফিজের সক্ষমতা নিয়ে তাসকিনের মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট, হি ইজ এ গ্রেট বোলার, গ্রেট প্রসপেক্ট ফর আস। ও চাইলেই সব ধরনের জায়গায়, কন্ডিশনে বল করতে পারে। এটা বারবার প্রমাণ করেছে যে হি ইজ ক্যাপাবল ফর উইথ এনি সিচুয়েশন।
নতুন বলে মোস্তাফিজের সঙ্গে জুটি গড়ে বোলিং করাটাও আলাদা উপভোগ করেন বাংলাদেশের এ পেস সেনসেশন, যে যখন খেলতেছে বা বল করতেছে, সবাই তো মাশাআল্লাহ ভালো করতেছে। তো এটাই আসলে একটা ভালো ফাস্ট বোলিং গ্রুপের লক্ষণ। আর ফিজের সঙ্গে বল করতে তো সবসময় এনজয় করি, শুধু আমি না, সবাই।
তবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম নাহিদ রানা। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতির বোলিং করে ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছেন তরুণ এ পেসার। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বিপক্ষেও তার গতির ঝড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তাসকিনের কণ্ঠেও ছিল সতীর্থকে নিয়ে গর্ব, এটা গ্রেট ফিলিং। বিকজ আমাদের পেস বোলিং ইউনিটেরই সবার নাম। সিজন তো সবার সবসময় এক যায় না। ঘুরেফিরে কেউ না কেউ লিড করছে এবং সবারই কন্ট্রিবিউশন থাকতেছে। এটা একটা ভালো ফিলিং।
নাহিদকে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন তাসকিন, রানার মতো একটা এক্সপ্রেস বোলার পাইছি। ওর বল খেলতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরাও মিডল অর্ডারে ভয় পাচ্ছিল আসলে। এটা খুবই দারুণ ফিলিং। আর এজ এ বোলিং ইউনিট হিসেবে সবাই মিলে ইমপ্রুভ করতেছি, এটা সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































