ছবি : আপন দেশ
একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেস আক্রমণের সামনের সারিতে ছিলেন রুবেল হোসেন। দলকে ব্রেক থ্রু এনে দিতেন নিয়মিত। তবে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের বাহিরে ‘বাগেরহাট এক্সপ্রেস’ খ্যাত এ পেসার। কিছুদিন আগে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এবার আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেন রুবেল।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে এ পেসারকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ম্যাচ শুরুর আগে রুবেলের সম্মানে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশ দল ফিল্ডিংয়ে নামার আগে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন দলের ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা। সেখানে রুবেলের হাতে তুলে দেয়া হয় বিশেষ ক্রেস্ট এবং বাঁধাই করা তিন সংস্করণের তিনটি জার্সি, যেখানে তার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল এবং অ্যাডহক কমিটির দুই সদস্য ফাহিম সিনহা ও রফিকুল ইসলাম বাবু।
বিদায় বেলায় কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন রুবেল হোসেন। বাবা-মাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি আজকে এখানে দাঁড়াতে পেরেছি দুইজন মানুষের জন্য। তারা হলেন আমার বাবা ও মা। যারা আমাকে আন্তরিকভাবে সাহস জুগিয়েছেন, আমার পাশে ছিলেন এবং নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছেন। আমি তাদেরকে আজকে খুব মিস করছি।
যে কোনো খেলোয়াড়ই চান একটি সুন্দর বিদায়। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কল্যাণে রুবেলের এমন সুন্দর বিদায়ের আয়োজন সম্ভব হয়েছে। কারণ, তিনি নিজেও একজন খেলোয়াড় ছিলেন। তাই একজন খেলোয়াড়ের আকাঙ্ক্ষা তিনি বুঝতে সমর্থ হয়েছেন।
আরও পড়ুন<<>>টস হেরে সৌম্যকে নিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রুবেল বলেন, আমি যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে অবসরের সিদ্ধান্ত জানাই, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ফোন করে বলেন, রুবেল, তোকে আমরা সম্মানিত করতে চাই। বিষয়টি আমার কাছে খুবই গর্বের ও আনন্দের ছিল। আর আজকে এত সুন্দর একটা পরিবেশ... এজন্য আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিনের কোচকেও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন রুবেল, একজন মানুষের নাম না বললেই নয়—আমার রুবেল হোসেন হয়ে ওঠার পেছনে যার অবদান অন্যরকম। পেসার হান্ট থেকে আমাকে তুলে এনে যিনি ওপরে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছেন, তিনি আমার প্রিয় কোচ শ্রদ্ধেয় সারোয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
একইসঙ্গে ক্যারিয়াজুড়ে পাশে থাকা সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি, স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে বিসিবির সব কোচ, গ্রাউন্ডসম্যান, সব ফিজিক্যাল ট্রেইনার—সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ, যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং আমার পাশে ছিলেন। আমার বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে যারা খারাপ সময়ে পাশে ছিলেন, মিডিয়াকর্মী—সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আর বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমি যখন জাতীয় দলে খেলা শুরু করি তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমাকে সমর্থন করে যাচ্ছেন। সবাইকে ধন্যবাদ।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































