ছবি: আপন দেশ
বাগেরহাট জেলার সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির শেষ দিনে স্থানীয় এমপি শেখ মনজুরুল হক রাহাদ এবং জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে এলাকাবাসী, কৃষক, পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের সদস্যরা অংশ নেন। আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে বাগেরহাট-২ আসনের এমপি শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে খাল দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার সব সরকারি খাল পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
আরও পড়ুন<<>> ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে
এ সময় জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি খাল দখলমুক্ত করার দাবির সঙ্গে প্রশাসন সম্পূর্ণ একমত। তিনি আগামী তিন
মাসের মধ্যে জেলার সরকারি খালগুলো পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের একটি স্মারকলিপি জমা দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমপি ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে তারা স্পষ্ট করে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আবারও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, জেলার সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল এবং হোজির খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব খালে বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষের কারণে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষিকাজে পানির সংকট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এমপি ও জেলা প্রশাসকের দেয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জেলার খালগুলো আবারও জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে। কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর জেলা প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপি প্রধানের মাধ্যমে এ আন্দোলনের আপাতত স্থগিত করা হয়।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































