Apan Desh | আপন দেশ

বিপিএল খেলে বাবা-ছেলের ইতিহাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৬, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

বিপিএল খেলে বাবা-ছেলের ইতিহাস

মোহাম্মদ নবি ও তার ছেলে হাসান ইশাখিল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথমবার অংশ নিয়ে শুরু থেকে একের পর এক ম্যাচে হতাশা উপহার দিয়ে খবরের শিরোনাম হয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা ৬ হারের পর ৭ম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল তারা। নিজেদের ৮ম ম্যাচে এসে দারুণ এক চমক উপহার দিল তারা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছে নোয়াখালী। 

রেরবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে আফগান কিংবদন্তি মোহাম্মদ নবি ও তার ছেলে হাসান ইশাখিলকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে নোয়াখালী। বিপিএলের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো দলের একাদশে বাবা ও ছেলে একসঙ্গে খেলছেন। 

এবারই প্রথম বিপিএলে অংশ নিচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। আসরের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে আছেন ইশাখিল। দুই ম্যাচ পর যোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ নবি। অষ্টম ম্যাচে এসে বাবা ও ছেলেকে দেখা গেল একসঙ্গে একাদশে। শুধু তাই নয়, বাবা-ছেলেকে একসঙ্গে ব্যাট করতেও দেখা গেল। তৃতীয় উইকেট হিসেবে নোয়াখালীর হাবিবুর রহমান সোহান আউট হওয়ার পর ওপেনার ইসাখিলের সঙ্গে ব্যাট করতে নামেন তার বাবা মোহাম্মদ নবি।

নবির স্বপ্ন ছিল ছেলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা। সে স্বপ্ন পুরণ করেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একাদশে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই ইসাখিলকে ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। সে প্রত্যাশার পুরো মূল্যই দিলেন তিনি। ৬০ বলে ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে নিজের বিপিএল অভিষেক স্মরণীয় করে রাখেন এ স্টাইলিশ ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ১৫৩.৩৩। চতুর্থ উইকেটে বাবার সঙ্গে তার ৫৩ রানের জুটি নোয়াখালীকে এনে দেয় টুর্নামেন্টে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ—৭ উইকেটে ১৮৪ রান। শেষ পর্যন্ত ৪১ রানের বড় জয় পায় নোয়াখালী।

আরও পড়ুন<<>>শ্রীলঙ্কা নয়, ভারতেই বিকল্প ভেন্যুর খোঁজে আইসিসি

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাবা–ছেলের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই হাসিমুখে ইসাখিল বলেন, ‘না, না, বাবা একদম কঠোর নন। আমরা সাধারণ বাবা–ছেলের মতো, বন্ধুর মতো। পাশে বসা ৪১ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার নবী হালকা হাসি দিয়ে যোগ করেন, আমি শুধু অনুশীলনের সময় কঠোর। সেখানে কোনো অজুহাত নেই। বাবা-ছেলের এ কথোপকথনে পুরো প্রেসরুমে হাসির রোল পড়ে যায়।

নবী জানালেন, এ সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। ম্যাচের আগের দিন প্রায় ৯০ মিনিট ধরে ছেলেকে আলাদা করে প্রস্তুত করেছেন। তার ভাষায়, আমি দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে চেয়েছি। তাকে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করেছি। আমি তাকে বলেছি কী ধরনের বোলারদের মুখোমুখি হতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে কী বল আসতে পারে—দ্রুত নাকি স্লোয়ার। সাইড-আর্ম স্টিক দিয়ে তাকে বেশ কষ্টই দিয়েছি। সে এসব মাঠে কাজে লাগিয়েছে।

৯২ রানে আউট হওয়া নিয়ে ইসাখিলের কোনো আফসোস নেই, ওই সময় আমি ছক্কা মারার চেষ্টা করছিলাম, দলকে বড় সংগ্রহ দিতে চেয়েছি। তাই শতক না পাওয়ায় হতাশ নই। অনেকে মনে করেন, ইসাখিল ব্যাটিংয়ে বাবাকে অনুকরণ করেন। তবে তা মানতে নারাজ তরুণ ব্যাটার, ‘সবার কাছ থেকেই শুনি আমি বাবার মতো খেলি। কিন্তু এটা স্বাভাবিকভাবেই আসে। আমি কাউকে নকল করি না।

এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে পিতা-পুত্র প্রথমবার একসঙ্গে খেলেছেন আরও এক যুগ আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি শিব- নারায়ন চন্দরপল এবং তার ছেলে ত্যাগনারায়ন চন্দ্রপল একসঙ্গে ১১টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে পিতার নেতৃত্বে খেলেছেন ত্যাগনারায়ন।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়