ছবি: আপন দেশ
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জামায়াত নেতা এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এ মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতা, ঢাকা ১৫ আসনে জামায়াতের এমপি ডা. শফিকুর রহমান এবং সমর্থক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপির এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের নাম রয়েছে। মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীরবিক্রম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। দুই দফায় খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।
তবে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ২০০৬ সালে বিএনপি ছাড়েন অলি। ওই বছর ২৬ অক্টোবর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি। তবে আদর্শগত পার্থক্যের কারণে ২০০৭ সালে বিকল্প ধারা ও এলডিপি আলাদা হয়ে যায়।
শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকলেও পরে বিএনপির জোটভুক্ত হয় এলডিপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধনি ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন অলি।
আরও পড়ুন<<>>রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনয়নপত্র জমা দেবে আজ: চিফ হুইপ
তবে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর নতুন মেরুকরণে বিএনপির সঙ্গে অলির বনিবনা হচ্ছিল না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তার এলডিপি যখন জামায়াত জোটে যোগ দিল, অনেকেই তখন বিস্মিত হয়েছিলেন।
প্রথমে বিএনপি এবং পরে এলডিপি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি অলি আহমদের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। এলডিপি ১১ দলীয় ঐক্যে যোগ দেয়ার পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে প্রার্থী করা হয় অলির ছেলে ওমর ফারুককে। তবে ভোটের লড়াইয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদের কাছে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আগামী ১৬ আগস্ট। প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে। ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনের ভোটার।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































