Apan Desh | আপন দেশ

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আপডেট: ১৫:৪৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ ও তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, এ রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। এবং সে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দেয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম।

আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এ রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেয়ার।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তার কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি এসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে দায়মুক্তি দেয়া। তিন নম্বর ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে।

আরও পড়ুন<<>>‘বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না’

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতের নির্দেশে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ করেছিল শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু কোর্ট। এ প্রতিবেদন অনুসারে বিএনপির ২৬ হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার হিন্দুকে তারা হত্যা করেছে এজন্য দায়ী করা হয়েছিল। এবং আওয়ামী লীগ দেশে বিদেশে এ রিপোর্ট ফেরি করে তারা নিজেদের এখানে ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এ রাষ্ট্রপতি চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেয়ার কারিগর। দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। এবং জুলাই গণহত্যার সময় তার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এ দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এ অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়