Apan Desh | আপন দেশ

‘এল নিনো’র ভয়াবহতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ১৬ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৯:১৮, ১৬ জুন ২০২৬

‘এল নিনো’র ভয়াবহতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সতর্কবার্তা

ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও ঘনীভূত হতে পারে। এটি গত সাত দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে দেশটি আবহাওয়া ব্যুরো এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলটিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এল নিনোর জন্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া বায়ুমণ্ডলীয় বিভিন্ন সূচকও এটি শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্রান্তীয় মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি শক্তিশালী থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রায় অর্ধেক গাণিতিক মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছ, ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা এল নিনোগুলোর মধ্যে এবারেরটি তীব্রতার দিক থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ আবহাওয়ার প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে দেখা দিতে পারে এশিয়ায় তৈরি হতে পারে শুষ্ক পরিস্থিতি। যার কারণে  প্রচণ্ড গরমও দেখা দিতে পারে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে এশিয়ায় ফসল রোপণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো বলছে, এল নিনোর প্রভাবে শীত ও বসন্তকালে বৃষ্টিপাত কমে যায়। এটি বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে প্রভাব ফেলে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দেশটির জন্য এ আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষতিকর। কারণ এটি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করে। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবারের এল নিনোর প্রভাব আরও শক্তিশালী ও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৩-২০২৪ সালে এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল। এর ফলে দেশটি ইতিহাসে রেকর্ড শুষ্ক তিন মাস অতিবাহিত করেছিল। এর আগে ২০১৫-২০১৬ এল নিনোর প্রভাবে কারণে ব্যাপক খরা দেখা দিয়েছিল। এতে দেশটির তেলবীজ ও শস্য উৎপাদন অনেক কমে যায়।

আরও পড়ুন <<>> যুক্তরাষ্ট্রে বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলছে, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি পর্যায়। এটি সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর দেখা দেয়। একেকবার এটি ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

গত ২ জুনের সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো ঘটার ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এটি নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি রয়েছে। 

ডব্লিউএমওর প্রতিবেদনে পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, এমন পরিস্থিতিকে ‘জরুরি জলবায়ু সতর্কতা’ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এটি সমাধানের জন্য বর্তমান সংকটের সমানুপাতিক জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার অবসান ঘটানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ত্বরান্বিত করা, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেয়া এবং সকলের জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়