Apan Desh | আপন দেশ

কিংবদন্তি জ্যাজ সংগীতশিল্পী আবদুল্লাহ ইব্রাহিম মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১১:১৫, ১৬ জুন ২০২৬

আপডেট: ১১:৩১, ১৬ জুন ২০২৬

কিংবদন্তি জ্যাজ সংগীতশিল্পী আবদুল্লাহ ইব্রাহিম মারা গেছেন

ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাজ সংগীতের অন্যতম রূপকার ও কিংবদন্তি পিয়ানোবাদক আবদুল্লাহ ইব্রাহিম (৯১) মারা গেছেন। জার্মানিতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ইব্রাহিম তার সংগীত প্রতিভা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দিয়ে দেশকে সম্মানিত করেছেন।’

১৯৩৪ সালে কেপটাউনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার প্রকৃত নাম ছিল অ্যাডলফ জোহানেস ব্র্যান্ড। মাত্র সাত বছর বয়স থেকে পিয়ানো বাজানো শুরু করা এ শিল্পীর কর্মজীবন ছিল প্রায় আট দশকের দীর্ঘ।’

কিশোর বয়সে তিনি বিভিন্ন ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি ‘দ্য জ্যাজ এপিসলস’ নামে একটি দল গঠন করেন, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক জ্যাজ কিংবদন্তি হিউ মাসাকেলাও ছিলেন। মঞ্চে শুরুতে তিনি ‘ডলার ব্র্যান্ড’ নামে পরিচিত হলেও ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ ইব্রাহিম রাখেন।

১৯৪৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন কঠোর বর্ণবৈষম্যবাদ (আইনসম্মত বর্ণবাদ ব্যবস্থা) শুরু হয়, তখন জ্যাজ সংগীতকে অপরাধ বা ভিন্ন সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা হতো।

রাজনৈতিক চাপের মুখে তাদের ব্যান্ডটি ভেঙে যায় এবং ইব্রাহিম সুইজারল্যান্ডে চলে যান। সেখানে আমেরিকান জ্যাজ কিংবদন্তি ডিউক এলিংটনের নজরে পড়েন তিনি। এলিংটন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। পরবর্তীতে জ্যাজ ছন্দের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সুরের মিশ্রণ ঘটিয়ে ইব্রাহিম এক অনন্য নিজস্ব ধারা তৈরি করেন। ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া তার বিখ্যাত ট্র্যাক ‘ম্যানেনবার্গ’ দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে বসবাস করলেও আবদুল্লাহ ইব্রাহিম কখনোই তার শিকড় ভোলেননি। সুযোগ পেলেই তিনি দেশে ফিরে গান গাইতেন। মাত্র তিন মাস আগেও তিনি কেপটাউন আন্তর্জাতিক জ্যাজ উৎসবে তার জীবনের শেষ সরাসরি পারফরম্যান্স করেন।

আরও পড়ুন : শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নিলেন বিজয়-রাশমিকা

তার সঙ্গী ড. মেরিনা উমারি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন, ‘আবদুল্লাহ দক্ষিণ আফ্রিকা ও তার দেশের মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করেই শান্তিতে বিদায় নিয়েছেন। বিশ্বের যেখানেই তিনি থাকুন না কেন, দেশের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়।’

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়