Apan Desh | আপন দেশ

‘ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই সুশাসনের পথ নির্ধারণ হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:২৯, ২৪ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৬:৩৬, ২৪ মার্চ ২০২৬

‘ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই সুশাসনের পথ নির্ধারণ হবে’

ছবি : আপন দেশ

ইতিহাসের শিক্ষা এবং তার ধারাবাহিক চর্চার মধ্য দিয়েই সঠিক সুশাসনের পথ নির্ধারণ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ‘অতীতের নির্বাচন ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাগুলো বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক দিক-নির্দেশনা তৈরি করা জরুরি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তে 'ফিরে দেখা সেই সময়' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপম বলেন, ‘দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা সময়ের দাবি। এসব নির্বাচন নিয়ে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে। ভবিষ্যৎ গবেষক ও বিশ্লেষকদের এসব বিষয় আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজে বিতর্ক সংস্কৃতি শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হয় না। তরুণ প্রজন্মকে সমালোচনামূলক চিন্তা, যুক্তি এবং মতবিনিময়ের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অন্ধভাবে কোনো কিছু মেনে নেয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং সংসদে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট হবে না। তবে অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে দলনিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আগ্রহ এখনো বিদ্যমান।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইতিহাসের শিক্ষা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

‘ফিরে দেখা সেই সময়’ গ্রন্থের লেখক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গবেষণাধর্মী কাজ গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তিনির্ভর ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে দেশে বিতর্কচর্চা আরও জোরদার করা জরুরি। স্কুল ও টেলিভিশন পর্যায়ে বিতর্কের প্রসার ঘটাতে উদ্যোগ নিতে হবে।’

একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইটি সমাজকে স্পষ্ট বার্তা দেয়—দুর্নীতি, ঘুষ, গুম, খুন ও হত্যার মতো অন্যায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

নতুন প্রজন্মের বইমুখী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তরুণরা মোবাইলনির্ভর হয়ে পড়ছে; তাদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জনগণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে।’ 

পাশাপাশি বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের সক্ষমতার ওপর দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। 

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুন, মামলা-হামলা ও ভয়ভীতির সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করা হয়েছিল। ওই সময়ের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ৩৮টি নিবন্ধ সংকলন করে ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বিনা ভোটের নির্বাচন, গুম-খুন, দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, প্রশ্নফাঁসসহ নানা ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।”

অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী দুঃশাসনের তথ্য নিয়ে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের লেখা নিবন্ধসমূহ সংকলিত আকারে ‘ফিরে দেখা সেই সময়’ বইটি প্রধান অতিথিসহ আগত অতিথিদের প্রদান করেন।

আরও পড়ুন : বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে কর্মকর্তাদের যে নির্দেশনা দিল ইসি

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ ও অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক ড. এস এম মোর্শেদ প্রমুখ।

আপন দেশ/এনএম

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়