ছবি: আপন দেশ
রাষ্ট্র পরিচালনায় সকল দলের সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যিনি একদিন পরই প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাজধানীর বেইলি রোডে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীরের বাসায় যান। সৌজন্য সাক্ষাত করেন। শীর্ষ দুই নেতা পৌনে একঘন্টা একান্তে কথা বলেন।
বৈঠক শেষে পীর সাহেব চরমোনাই সাংবাদিকদের বলেন, তারেক রহমান যে রাজনৈতিক সৌহার্দ দেখিয়েছেন তা অনন্য। দীর্ঘ আলাপচারিতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে একাকার হয়ে দেশ গঠনের ওপরে গুরুত্বারোপ করেছি। তিনিও রাষ্ট্র পরিচালনায় আমাদের সহায়তা চেয়েছেন। জবাবে সকল ভালো কাজের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করার এবং দেশ-জাতি ও ইসলামের স্বার্থ বিরোধী কাজের নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছি। তারেক রহমান প্রতিবাদের আগে আলোচনা করার আহবান জানান, আমরা তা সাদরে গ্রহণ করেছি।

জুলাই সনদ ও উচ্চকক্ষের ব্যাপারে জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও মান্যতা প্রদর্শনের আহবান করা হয়েছে। জবাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট দেয়া বিষয়গুলো পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের ওপরে ন্যাস্ত করার কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
পীরের দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলে দিয়ে তারেক রহমান যে সৌজন্যবোধের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করলেন তা প্রশংসনীয়।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানীর বেইলি রোডে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাত সাড়ে ৮টায় বেইলি রোডের বাসভবনে পৌঁছালে নাহিদ ইসলাম তাকে স্বাগত জানান।
আরও পড়ুন<<>> নাহিদ ইসলামের বাসায় তারেক রহমান
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এনসিপির পক্ষ থেকে ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা।
একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরা বাসভবনে যান। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি জামায়াত আমীর ও এনসিপি আহবায়কের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
তারেক রহমানের এ ঐতিহাসিক বিজয়ে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠস। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আপন দেশ/এবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































